


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি; মণিপুর নিয়ে আলোচনায় বুধবার উত্তাল হল সংসদ। প্রবল বচসা বেঁধে গেল তৃণমূল-বিজেপির। বলতে বাধা দেওয়ায় সংসদে বিজেপির বিরুদ্ধে কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে মুলতুবি তো বটেই, এমনকী লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে গিয়ে বঙ্গ বিজেপির সাংসদের নামে মহিলাকে অপমান করা হয়েছে, এই মর্মে নালিশ পর্যন্ত করলেন বিরোধী জোটের মহিলা সাংসদরা। সতর্ক করা হল সৌমিত্র খাঁকে।
অশান্ত মণিপুরে বিজেপি সরকার ভেঙে দিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। সেই সময়কাল আরও ছ’মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্তে লোকসভায় বিধিবদ্ধ প্রস্তাব পাশ করাতে চায় মোদি সরকার। যদিও তার প্রতিবাদই করেছে তৃণমূল। আর সেই আলোচনার সময়ই এদিন বিকেলে বেঁধে গেল বচসা। তৃণমূলের বক্তা ছিলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। অধ্যক্ষের আসনে ‘প্যানেল অব চেয়ার’ কংগ্রেসের কুমারী সেলজা। কাকলিদেবী তাঁর বক্তৃতায় দাবি করলেন, আগামী ১৩ আগস্ট থেকে ফের ছ’মাস মেয়াদ বৃদ্ধি নয়। বরং আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হোক অশান্ত মণিপুরে। ওখানে প্রশাসন যেমন ব্যর্থ, তেমনই রাষ্ট্রপতি শাসন পর্বেও স্বাভাবিক হয়নি উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্য।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো প্রতিনিধিদলে মণিপুর গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য চাক্ষুস করেছেন। মহিলাদের উপর অকথ্য অত্যাচারের কথা শুনেছেন, দুদর্শা দেখেছেন। সেই বর্ণনাই দিচ্ছেলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। কেন এখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মণিপুর গেলেন না? প্রশ্নও তুললেন। বিজেপির প্রতি সমালোচনা বাড়ছে দেখে প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। নিজের আসন ছেড়ে উঠে তৃণমূলের দিকে চলে এলেন। বাংলায় তৃণমূল সরকার, মুখ্যমন্ত্রীর নামেও লাগামহীন মন্তব্য করতে থাকেন বলেই অভিযোগ। প্রবল চিৎকারে সভা উত্তাল করেন সৌমিত্র খাঁ।
তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, সায়নী ঘোষ, মিতালি বাগ প্রতিবাদে সোচ্চার হন। কেন একজন মহিলা বক্তার বলার সময় এমন ব্যবহার করা হচ্ছে? তুললেন প্রশ্ন। অধ্যক্ষের আসন থেকে কুমারী সেলজা সতর্কও করলেন সৌমিত্রকে। কিন্তু তিনি থামেননি। তাই অগত্যা সভা মুলতুবি করে দেওয়া হল। মুলতুবি পর্বে এনসিপি (শারদ পাওয়ার)র নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে বিরোধী জোটের মহিলা সাংসদদের নিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার কক্ষে যান। নালিশ করেন বঙ্গ বিজেপির সাংসদের নামে।