


ওয়াশিংটন ও দুবাই: ‘অতি শীঘ্র’ যুদ্ধে ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ফের ভোলবদল। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে তেহরানকে চড়া সুরে হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাঁর হুমকি, ইরানে আরও দু-তিন সপ্তাহ ‘প্রবল আঘাত’ চলবে। এর ধাক্কায় ইরান ‘প্রস্তুর যুগে’ ফিরে যাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নয়া হুমকিবার্তায় স্পষ্ট, এখনই যুদ্ধ থামার লক্ষণ নেই। বরং তা আরও দু-তিন সপ্তাহ চলবে। ফলে এদিন ফের রকেট গতিতে বেড়েছে তেলের দাম। আর যুদ্ধ নিয়ে ক্ষণে ক্ষণে ইউ-টার্ন নেওয়ায় নিজের দেশেই প্রবল সমালোচনা হজম করতে হয়েছে ট্রাম্পকে। প্রেসিডেন্টের ‘ভ্রান্তিবিলাস’ নিয়ে সরব মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।
ট্রাম্পের ফের দাবি, ইরান যুদ্ধে আমেরিকার যা লক্ষ্য ছিল, তার বেশি অর্জন করা গিয়েছে। এদিন অবশ্য তেহরানের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে একটি কথাও বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে ৬ এপ্রিলের মধ্যে হরমুজ প্রণালী মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। ওই সময়সীমা নিয়েও কিছু জানাননি ট্রাম্প। এদিন তাঁর ভাষণের পরই আরও চড়েছে অশোধিত তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ৪.৯ শতাংশ বেড়ে দাম পৌঁছে গিয়েছে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণের সমালোচনায় সরব ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্যরা। মার্কিন কংগ্রেসের মহিলা সদস্য ইয়াসামিন আনসারি সুর চড়িয়ে বলেছেন, ৯ কোটি জনসংখ্যার একটি দেশ সম্পর্কে জঘন্য, ভয়ংকর ও শয়তানসুলভ ভঙ্গিতে কথা বলছেন প্রেসিডেন্ট। আরেক কংগ্রেস সদস্য জিম হাইমসের খোঁচা, ট্রাম্পের ভাষণের পর থেকে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেনেটর ক্রিস ভান হোলেনের ঠেস, দুসপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্টের ঘোষণা ছিল, আমরা জিতে গিয়েছি। তিনি আমেরিকাকে মিথ্যা বলেছেন। এই লোকটি আমাদের দেশ ও গোটা বিশ্বের জন্যই বিপজ্জনক। এরইমধ্যে মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর প্রশ্ন, এই যুদ্ধ থেকে মার্কিন নাগরিকদের ঠিক কী ধরনের স্বার্থসিদ্ধি হবে? ছবি: পিটিআই