


ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে শুরু হল আমেরিকা-ইরানের মধ্যে বহুপ্রতীক্ষিত শান্তি বৈঠক। আমেরিকার প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। সঙ্গে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন সেদেশের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। এছাড়াও রয়েছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিল সেক্রেটারি আলি আকবর আহমাদিয়ান এবং সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি।
সূত্র উল্লেখ করে আল জাজিরা জানিয়েছে, যুযুধান দেশের এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ‘ইতিবাচক আবহে’ হয়েছে। আলোচনার প্রথম দফায় প্রায় দু’ঘণ্টার কথাবার্তায় লেবাননের পরিস্থিতি সহ সংঘাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। নৈশভোজের পর দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হয়। সূত্রের খবর সেই আলোচনা মধ্যরাত পেরিয়ে গড়াতে পারে রবিবার পর্যন্ত। লেবানন নিয়েও কিছুটা আশার আলো দেখা গিয়েছে। ইজরায়েলের হামলা এখন সে দেশের দক্ষিণ প্রান্তেই সীমিত। আশা করা হচ্ছে রাজধানী বেইরুটে আর কোনো হামলা হবে না। তবে এই নিয়ে এখনও কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।
এদিন নূর খান এয়ারবেসে দুই দেশের প্রতিনিধিদের অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার, সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং অভ্যন্তরীণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রেজা নকভি। বৈঠক উপলক্ষ্যে ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নূর খানে অবতরণের আগে এদিন ভান্সের বিমানকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে পাক বিমানবাহিনীর পাঁচটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এছাড়া প্রতিনিধিদলের সুরক্ষার জন্য ১০ হাজার পুলিশ, সেনা ও রেঞ্জার্স মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলিকে নিয়ে রেড জোন তৈরি করা হয়েছে। চারদিন আগেই দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও আমেরিকা। এর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে শান্তি বৈঠক। ইরানের পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার মতো বিষয়গুলি নিয়ে সমাধানসূত্র খোঁজার চেষ্টা হবে বৈঠকে। এরইমধ্যে ইরানকে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাত্কারে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র। অদূর ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী সকলের জন্য খুলে যাবে। আলোচনা সঠিক পথে না চললে আমেরিকা যুদ্ধবিরতি মানবে না। ২৪ ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দিয়েছেন তিনি। শুক্রবারও তিনি জানিয়েছিলেন, আমেরিকার যুদ্ধজাহাজগুলিতে ফের অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে। ইরান চুক্তি না করলে আমেরিকা ওই অস্ত্র ফের ব্যবহার করবে। এরমধ্যে লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইজরায়েল। এই ঘটনায় যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ইরান। যদিও আমেরিকা ও ইজরায়েলের দাবি লেবানন সংঘর্ষবিরতির অংশীদার নয়। যদিও ইরান তা মানতে নারাজ। তবে এতকিছুর মধ্যেও তাল ঠুকে চলেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যখন শান্তি আলোচনা চলছে তখন বিবির তোপ, ‘জঙ্গি প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। এখনও অনেক কিছু করার আছে।’