


ওয়াশিংটন: মার্কিন নৌসেনার অন্যতম সম্পদ রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বক্তব্য, স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ যুদ্ধজাহাজ। আমেরিকা যদিও সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। এরইমাঝে যুদ্ধের ১৫তম দিনে সামনে এল নয়া তথ্য। এবার আরও এক রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলিকে পশ্চিম এশিয়ায় উদ্দেশে পাঠাচ্ছে আমেরিকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছে, ৩১তম মেরিন এক্সপেনিশনারি ইউনিট ও ইউএসএস ত্রিপোলিকে পশ্চিম এশিয়ায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আকাশপথের পাশাপাশি সমুদ্রপথে ইরানের উপর হামলা আরও তীব্র করতেই ট্রাম্পের এই রণনীতি।
ইউএসএস ত্রিপোলি একটি অ্যাম্ফিবিয়ান অ্যাসল্ট রণতরী। সূত্রে খবর, ২৫০০ নৌসেনা, এফ-৩৫ বি যুদ্ধবিমান নিয়ে ইতিমধ্যে তা জাপান থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে জাহাজটি পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন সেনাঘাঁটির কাছে পৌঁছবে। এর আগে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন করা ছিল। এবার তৃতীয় যুদ্ধ জাহাজ পাঠাল ট্রাম্প প্রশাসন। এই রণতরীতে রয়েছে এফ-৩৫বি লাইটনিং স্টিল্থ যুদ্ধবিমান। মার্কিন সেনার কথায়, কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট থেকে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার যুদ্ধবিমান সহ যাবতীয় সমরাস্ত্রে সজ্জিত রণতরীটি যে কোনো সামরিক হামলার মোকাবিলা করতে সক্ষম।
আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ‘আমেরিকা নয়, যুদ্ধ শেষ করব আমরাই। যদি আমেরিকা ও ইজরায়েল হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে পশ্চিম এশিয়া থেকে এক লিটার তেলও বেরোতে দেব না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখ রাঙানিকে তোয়াক্কা না করেই সমানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে খামেনেইর দেশ। এমনকি জ্বালানি সরবরাহের রুট হরমুজ প্রণালীতেও মাইন বসাতে শুরু করে দিয়েছে। ক্রমে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার রণতরী পাঠানোকে কেন্দ্র করে ফের বড়োসড়ো হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।