


সংবাদদাতা, কালনা: কালনা সুপার স্পেশালিটি ও মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাবে মঙ্গলবার থেকে অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল ইউএসজি পরিষেবা। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রসূতি মায়েদের বেসরকারিভাবে বাইরে থেকে ইউএসজি করিয়ে এনে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও মহকুমা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের একমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনত্র চলে যাওয়ায় সেখানেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা সামাল দিচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ইউএসজি পরিষেবার ক্ষেত্রে একজন রেডিওলজিষ্ট চিকিৎসক ছিলেন। সোমবার তিনি অনত্র চলে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কতদিন এইভাবে চলবে? এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এদিকে হাসপাতালের তিন সহকারী সুপারের এক সঙ্গে বদলির নির্দেশ এসেছে।
কালনা সুপার স্পেশালিটি ও মহকুমা হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় একশো রোগী ইউএসজি পরিষেবা পান। ভর্তি থাকা পাঁচ শতাধিক রোগীর সঙ্গে প্রতিদিন এক হাজারের বেশী রোগী আউটডোর চিকিৎসা পরিষেবা পান বিনামুল্যে। হাসপাতালে বিনামুল্যে ডায়ালিসিস, সিটিস্ক্যান, এইচডিইউ, এসএনসিইউ সহ অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে ইউএসজি পরিষেবা পান রোগীরা। ইউএসজি পরিষেবায় একজন মাত্র রেডিওলজিষ্ট চিকিৎসক এই পরিষেবা দিয়ে আসছিলেন। সোমবার হাসপাতালে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি অনত্র চলে যান। ফলে, মঙ্গলবার থেকে সম্পুর্ণ রুপে বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের নিজস্ব ইউএসজি পরিষেবা। এছাড়াও হাসপাতাল মর্গে একজন ময়নাতদন্তের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে অন্যান্য চিকিৎসকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দিন কয়েক আগে একমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের হাসপাতালের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনিও অনত্র চলে যান। ফলে, ক্রিটিক্যাল অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়না তদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে ইউএসজি ও ময়না তদন্তের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসপাতালে পরিষেবায় যুক্ত হয়েছিলেন। তাদের মেয়ার শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা অনত্র চলে গিয়েছেন। জরুরি ক্ষেত্রে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বেসরকারিভাবে প্রসূতি মায়েদের বাইরে থেকে ইউএসজি করিয়ে আনা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনত্র চলে গিয়েছেন। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।