


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: বেলা ১২ টা চার মিনিট। প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় প্রবেশ করতেই বিজেপি সাংসদদের উল্লাস আর স্লোগান, ‘বন্দেমারতম।’ তারপরই হিন্দিতে প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি...‘বিহার কি জিত হমারি হ্যায়। অব বাঙ্গাল কি বারি হ্যায়।’ সেকথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীকে পালটা সমালোচনার শূলে চড়ালেন কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী থেকে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র।
সরকারপক্ষকে তোপ দেগে প্রিয়াঙ্কার সরাসরি সমালোচনা, আচমকাই কেন বন্দেমাতরম নিয়ে আলোচনার দরকার হল? কেন না সামনেই বাংলার নির্বাচন। তাই প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে ভূমিকা তৈরি করছেন। নাহলে বন্দেমাতরম তো আমাদের রক্তে। ভাবনায়। সংসদে নতুন করে আলোচনার দরকার পড়ল বাংলার নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই। প্রিয়াঙ্কা বলেন, বন্দেমারমের প্রথম দুটি স্তবক জাতীয় গীত হিসেবে গ্রহণ করার প্রশ্নে মোদিজি সঠিক তথ্য দেননি। নেহরুকে অপমান করার জন্য ইতিহাস বিকৃত করলে তো হবে না। সংবিধান সভায় দুটি স্তবক গ্রহণে সম্মতি দিয়েছিলেন আপনাদেরই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেটা কি ভুলে গেলেন?
প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যের সময় অবশ্য প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন না। গত ১ ডিসেম্বর থেকে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হলেও এদিনই প্রথমবার লোকসভায় এলেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময়ও লোকসভায় গরহাজির ছিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। তবে নিজের বক্তব্যে প্রিয়াঙ্কা অনুপস্থির অভাব উতরে দেন। কংগ্রেসের গৌরব গগৈ বিজেপির বাংলার জয়ের স্বপ্নকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন। বলেন, আপনারা তো বাংলাকে কোনওদিনও বুঝতেই পারেননি। বাংলার ভক্তি, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, নেতাজিকে বোঝেনই না। বাংলাদেশি বলে ঠাওরান।
নরেন্দ্র মোদি তাঁর ৫৭ মিনিটের বক্তৃতায় বঙ্কিমচন্দ্রকে চারবার ‘বঙ্কিমদা’ বলায় প্রতিবাদে সরব হয় তৃণমূল। নিজের বয়সের চেয়ে ১১২ বছরের বড় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ইয়ার-দোস্তের সমতুল আচরণের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, এটা কী হচ্ছে? ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রর সঙ্গে কি চায়ের আড্ডায় বসেছেন নাকি? এই অপমান মেনে নেবে না বাংলা। আলোচনায় অংশ নিয়ে মহুয়া মৈত্রকে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছোড়েন। বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে আসুন লড়তে। বুঝে যাবেন, ১০ কোটি বঙ্গবাসীর ২০ কোটি হাত কীভাবে প্রতিবাদের মুষ্টি তুলে বন্দেমাতরম স্রষ্টাকে অপমানের প্রত্যুত্তর দেয়। বিজেপির জুমলা চলবে না। সংসদে বন্দেমাতরম, জয় হিন্দ স্লোগান নিষিদ্ধ, রাজ্যসভার বুলেটিনে ফতোয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তৃণমূলের দুই বক্তাই বক্তব্য শেষ করেন উল্লেখিত স্লোগানেই।
এদিন কোচবিহার সফরের আগে কলকাতা বিমানবন্দরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রথমে রাজ্যসভায় নোটিফিকেশন দিয়ে বলেছিল, বন্দেমাতরম ও জয় হিন্দ বলা যাবে না। তারপর বিজেপির কয়েকজন নেতার বক্তব্য শুনলাম। তাঁরা বলছেন, নেতাজিকে পছন্দ করেন না। আমার এখানেই প্রশ্ন, তুমি নেতাজি, গান্ধীজিকে পছন্দ করো না, তাহলে কাকে পছন্দ করো? এরা কারা, যারা দেশের সম্পর্কেই জানে না? অথচ আজ তারাই নেতাজি, গান্ধীজি, রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, রাজা রামমোহন রায়কে অপমান করছে! বিজেপির নেতারা কি জানে বাংলার অবদান? যারা নেতাজিকে ঘৃণা করে, গান্ধীজিকে মানি না বলে, তারা আসলে বাংলা বিরোধী।