


কাজল মণ্ডল, গোয়ালপোখর (ইসলামপুর): ‘দিলসে রব্বানি, ফিরসে রব্বানি।’ গোয়ালপোখরের বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী গোলাম রব্বানি এবারও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে লড়াই করছেন। হুডখোলা গাড়িতে বিধানসভা জুড়ে উৎসাহী কর্মী-সমর্থকরা ‘দিলসে রব্বানি, ফিরসে রব্বানি’ গান বাজিয়ে ছুটে চলেছেন প্রার্থীর সঙ্গে সঙ্গে।
শনিবার দিনভর পাঞ্জিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার করলেন রব্বানি। এদিন সকালে তেলিয়াপোখর মাঠ এলাকা থেকে প্রচার শুরু হয়। অধিকারী, মঙ্গলবাড়িতে প্রচার করার পর কলোনি মোড় হয়ে শান্তিনগর হয়ে বোয়ালমারি, নিয়ামতপুর হয়ে কদমতলা সহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি প্রচার করেন। ভোতর এলাকায় এক কর্মীর বাড়িতে দুপুরে খাওয়াদাওয়া করেন।
রব্বানির এদিনের প্রচারে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। হুডখোলা গাড়িতে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ভোটারদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে নাড়তে চলতে থাকেন তৃণমূল প্রার্থী। সামনের একটি গাড়িতে সাউন্ড বক্সে গান বাজতে থাকে। পিছনে বাইক নিয়ে কর্মী-সমর্থকরা। শব্দ শুনেই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন বাসিন্দারা। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে কেউ নমস্কার করছেন, কেউ প্রার্থীর গলায় মালা পরিয়ে দিচ্ছেন। এভাবেই বিভিন্ন বয়সের মানুষজন প্রার্থীকে আশীর্বাদ করেন। প্রবীণ ও মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পাড়ার মোড়ে দাঁড়াতেই মানুষজন ছুটে আসে। চতুর্থ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য জোড়া ফুল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান রব্বানি। দিদির দূত হয়ে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের কথাও শোনান তিনি। বাসিন্দারা মুগ্ধ হয়ে শোনেন তাঁর কথা। মহিলারা এগিয়ে এসে জানান লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন, আর চিন্তা নেই। হুডখোলা গাড়িতে প্রচার করার ফাঁকে গাড়ি থেকে নেমে বাড়ি বাড়ি প্রচারও করেন তিনি। রব্বানি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের জন্যই এত মানুষের সহযোগিতা ও আশীর্বাদ পাচ্ছি। এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে লড়াই করেছেন, অন্য কেউ করেননি। ফলে মানুষ তৃণমূলের উপর আরও ভরসা পাচ্ছে। মহিলারা বলছেন চতুর্থবারের জন্য মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী আর আমাকে চতুর্থবারের জন্য বিধায়ক করবেন। রব্বানি যোগ করেন, বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিথ্যা কথা বলেন। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন। তাঁর জুমলা মানুষ বুঝতে পেরেছে।
গোটা দিন এভাবে প্রচার করে ক্লান্তি আসে না? রব্বানির কথায়, সারা বছর এলাকার মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করি। ফলে অভ্যাস আছে, তাই ক্লান্তি আসে না। সকালে রুটি-সবজি ও ফল খেয়ে বের হই। দুপুরে কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতেই কিছু খেয়ে নিই। গান প্রসঙ্গে রব্বানি বলেন, ভালই লাগছে। যাঁরা গান তৈরি করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ।