


সৌম্যকান্তি ত্রিপাঠী,বেলদা: প্রচারের শেষ দিনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দাঁতন বিধানসভার আঁতলা এলাকা। সংঘর্ষে জখম হয়েছিলেন দুই দলের বেশ কয়েকজন কর্মী, এমনকি পুড়েছিল একাধিক মোটরবাইক। উত্তেজনার জেরে পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেপ্তারও করেছিল। সেই অশান্ত এলাকাতেই বৃহস্পতিবার দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। গত কয়েকদিনের থমথমে পরিস্থিতি কাটিয়ে সকাল থেকেই বুথে বুথে লম্বা লাইন দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন এলাকার সাধারণ মানুষ। কোনোরকম উত্তেজনা অশান্তি ছাড়াই ভোট দিলেন তারা।
আঁতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, মথুরীবাড় আঁতলা মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র এবং আঁতলা নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। বহিরাগতদের নিয়ে এলাকায় যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, লাইনে দাঁড়িয়ে তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন স্থানীয়রা। মথুরীবাড় এলাকার বাসিন্দা অর্পিতা মিশ্র ও গৌরী মিশ্র বলেন, আমরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছি। আসলে এই এলাকায় আগে কখনও এমন অশান্তি হয়নি। বাইরের কিছু লোক এসেই কয়েকদিন আগে এলাকায় অশান্তি ও উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। আজ কোনো সমস্যাই হয়নি। শুধু তারাই নন, এলাকার সংখ্যালঘু মানুষরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকারে অংশ নিয়েছেন। জাকির খান, কালু শা এবং শেখ আজম জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হয়েছে।
আঁতলার পরিস্থিতি নিয়ে পাশের গ্রাম শংকরাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ ছিল। সেখানকার ভোটার ঝাড়েশ্বর জানা বলেন, আঁতলা নিয়ে খুব ভয়ে ছিলাম, কিন্তু আজ শুনলাম ওখানে খুব ভালো ভোট হয়েছে। তাই নিশ্চিন্তে বুথে এলাম। নিরাপত্তায় মোতায়েন এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের গলায় ছিল কড়া সুর। তিনি পরিষ্কার জানান, আমরা কোনো অশান্তি বরদাস্ত করব না। সেইজন্যই আমরা আছি। আমরা চাই মানুষ নির্ভয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক।
রাজনৈতিক তরজাও অবশ্য থেমে থাকেনি। বিজেপির প্রার্থী অজিত কুমার জানা বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট করানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ। সাধারণ মানুষ ভালো দল ও ভালো প্রার্থী চায় বলেই আজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুথে এসেছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী মানিক মাইতি দাবি করেন, মোহনপুরে সবসময় শান্তিপূর্ণ ভোট হয়। বিজেপি প্রার্থীর উস্কানিতেই কয়েকদিন আগে ওই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছিল। তবে মানুষ শান্তির পক্ষে থেকে আমাদেরই সমর্থন জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে অশান্তির মেঘ কাটিয়ে আঁতলা সহ পুরো দাঁতন বিধানসভা এলাকায় দিনভর চলল গণতন্ত্রের উৎসব।