


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশঙ্কা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। এবার একটি নামী বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবার জানাল, দেশে এবার বর্ষার বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতির জন্য বর্ষার বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে। জুলাই থেকে বর্ষার যে পিক সময় শুরু হয় সেইসময় থেকে এল নিনোর প্রভাব পড়বে এমনটাই আশঙ্কা করেছে ওই সংস্থা।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে বর্ষার সময়। এই চার মাসে দেশে স্বাভাবিক দীর্ঘ সময়ের গড় (এলপিএ) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮৬৮.৬ মিমি। ওই আবহাওয়া সংস্থা মনে করছে, এবার এটা এলপিএর ৯৪ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা। এটা থেকে ৫ শতাংশ কমবেশি হতে পারে। তার মানে এলপিএর থেকে বর্ষা ৯০ শতাংশের কম হতে পারে সেই আশঙ্কাও থাকছে। গতবছর দেশে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় দেশে সার্বিকভাবে ১০৮ শতাংশ বৃষ্টি হয়। দেশের কোনো প্রান্তে বর্ষার বৃষ্টির ঘাটতি ছিল না।
দেশে চাষবাস, বিশেষ করে খরিফ ফসলের চাষ বর্ষার বৃষ্টির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই বৃষ্টি কম হলে অর্থনীতিতে এর একটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। কেন্দ্রীয় সরকারের আবহাওয়া দপ্তর দিনসাতেকের মধ্যে বর্ষার বৃষ্টির ব্যাপারে প্রথম প্রাথমিক পূর্বাভাসটি দেবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, কয়েকমাসের মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। গতবছর প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা পরিস্থিতি হওয়ায় বর্ষা খুব ভালো হয়েছিল। ভারত মহাসাগরের ‘ডাইপোল’ (জলের উষ্ণতার পার্থক্য) পরিস্থিতিও গতবছর বর্ষার অনুকূল ছিল। ডাইপোলসহ আরো কিছু পরিস্থিতি দেশে বর্ষার বৃষ্টির উপর প্রভাব ফেলে। ডাইপোল আপাতত আগামীদিনে নেতিবাচক হবে না, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। এল নিনো পরিস্থিতি থাকলেও অতীতে ডাইপোল পরিস্থিতির জন্য দেশে খুব খারাপ বৃষ্টি একাধিকবার হয়নি। এই বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, লা নিনা পরিস্থিতি এখন বিদায় নিয়ে এসনো নিউট্রাল পরিস্থিতি চলছে প্রশান্ত মহাসাগরে। এই পরিস্থিতি স্বল্পসময় স্থায়ী হবে। খুব তাড়াতাড়ি এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হবে। বর্ষার প্রথম মাস জুনে তাও বৃষ্টি কিছুটা ভালো হতে পারে বলে আবহাওয়া সংস্থাটি মনে করছে। তারপর থেকে এল নিনোর প্রভাব আরো বেশি পড়বে। এল নিনো অর্থাৎ প্রশান্ত মহাসাগরে উপকূলের জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিক তাপমাত্রার বেশি হলে তা বায়ুপ্রবাহের গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন ঘটায়। এটা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বর্ষার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই কারণে বিশ্বজুড়ে উষ্ণতাও বাড়ে। এবার এল নিনো দীর্ঘস্থায়ী হবে। এমনই আশঙ্কা আছে।
বেসরকারি সংস্থারটির আশঙ্কা, এবার দেশের পশ্চিম ও মধ্য অংশে বৃষ্টি কম হবে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থানেও বৃষ্টি হবে স্বাভাবিকের চেয়ে কম। পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো থাকবে।