


দুবাই: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়! ফের উত্তেজনার পারদ চড়ছে পশ্চিম এশিয়ায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সেনা পরিকাঠামোতে ফের এয়ার স্ট্রাইক চালায় মার্কিন সেনা। শনিবার রাতে ইরানের সেনার নজরদারি, যোগাযোগ ও এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থাকে নিশানা করা হয়। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড হামলার ভিডিয়োও প্রকাশ করেছে। পরে ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান আবার সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি ভেঙেছে। সেজন্য ফের হামলা চালানো হয়। আমেরিকা আর যুক্তিপূর্ণ আচরণ করতে পারবে না। ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছিল, তা শেষ করতে বাধ্য হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘সেটা যদি হয়, তাহলে ইরানের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।’ হাত গুটিয়ে নেই ইরানও। ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি এবার ‘নরক যন্ত্রণা’ ভোগ করবে।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর প্রধান বলেছেন, ‘সিরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের রহস্য ভেদ করতে পারবে না আমেরিকা। কিন্তু কেউ হরমুজের নিয়ম ভাঙলে কী হবে, আমাদের আক্রমণ তা মনে করিয়ে দেবে।’ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল তাদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেই করতে হবে বলে রবিবার জানিয়েছে ইরান। উপসাগরমুখী জাহাজগুলির জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হল হরমুজ দ্বীপের দক্ষিণ দিকের পথ। উপসাগর থেকে আসা জাহাজগুলিকে ইরানের লারাক দ্বীপের দক্ষিণ দিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
শনিবার সকালে পানামার পতাকাবাহী তেলের ট্যাঙ্কার ‘কিকু’তে হামলা চালায় ইরান। জাহাজটি কাতারের সরকারি পরিচালিত সংস্থার অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে বৃহস্পতিবার ওমানের উপকূলেও একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আমেরিকার হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরিনে আমেরিকার আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। এর মধ্যে রয়েছে কুয়েতের আলি আল-সালেম এবং বাহরিনের পোর্ট সলমনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরও। যদিও তাদের এয়ার ডিফেন্স ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে বলে দাবি কুয়েতি সেনার। বাহরিন ইরানের হামলার কড়া নিন্দা করেছে। সরব হয়েছে জর্ডন, কাতার,সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও।
এদিকে, সংঘাতের মধ্যেই গত ৭২ ঘণ্টায় নয়টি ভারত ও বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজ হরমুজ পেরিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে সাতটি জাহাজই ভারতের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে আসছে। এছাড়া ভারতমুখী আরও ১৫টি জাহাজ এখন পারস্য উপসাগরে অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে দশটি ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ। সেগুলির মধ্যে চারটিতে সার এবং একটিতে জ্বালানি সংক্রান্ত পণ্য রয়েছে।