


তেহরান: ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৫টা। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর প্রস্তাব না মানলে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দেওয়া সেই ‘ডেডলাইন’ শেষ হওয়ার ৯০ মিনিট আগে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে গেল ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের নির্দেশেই তেহরান যুদ্ধবিরতি ও আলোচনায় রাজি হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরেই ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছিল, যতই আক্রমণ করা হোক, তারা কোনো পরিস্থিতিতেই আমেরিকার কাছে মাথা নত করবে না। এর আগেও হরমুজ খোলা নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব বারবার ফিরিয়ে দিয়েছে তারা। কিন্তু এই প্রথম সেই নীতি থেকে সরে এল তারা। মোজতবার নির্দেশ ছাড়া এমন সম্ভব নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এছাড়া ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) কমান্ডাররা যাতে যুদ্ধবিরতি মেনে নেন, তা নিশ্চিত করতে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও মুখ্য ভূমিকা নিয়েছেন বলে তেহরান সূত্রে খবর। জানা যাচ্ছে, সোমবার রাতেই মধ্যস্থতাকারীরা দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি সংশোধিত প্রস্তাব তৈরি করেন। আমেরিকা সেই প্রস্তাবে অনুমোদনও দেয়। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ছিল মোজতবার উপরে। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে চুক্তি নিয়ে মোটামুটি ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়। কিন্তু তারপরেও ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দুপক্ষকেই যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে নিতে অনুরোধ করেন। তার ঘণ্টাখানেক পর ট্রাম্পও জানিয়ে দেন, দু’সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ ও আক্রমণ বন্ধ রাখবেন। ইরানের তরফে আরাঘচিও জানান, তাঁরা যুদ্ধবিরতিতে রাজি।