


গাজা: আর অপেক্ষা নয়। এবার পুরো গাজা শহরের দখল নেবে ইজরায়েল। সোমবার এই ঘোষণা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ১৭ মে থেকে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। তার দু’দিনের মধ্যে গাজার উপর নিয়ন্ত্রণের কথা বললেন নেতানিয়াহু। অনেকেই বলছেন, হামাসকে ইজরায়েলি বাহিনী এতটাই কোণঠাসা করে ফেলেছে, যে আর প্রতিরোধের কোনও সম্ভাবনা নেই। আর এটা বুঝেই শহর দখলের কথা বলতে শুরু করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে গাজার প্রতি তাঁর সরকার কিছুটা নরম মনোভাবও দেখাতে শুরু করেছে। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, এবার গাজায় খাদ্যপণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। দুর্ভিক্ষ রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।
১৭ মে থেকে ‘অপারেশন গিডিয়ন’স চ্যারিয়টস’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইজরায়েল। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ তাদের হিব্রু ভাষায় পরিচালিত এক্স অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, এই অভিযানের লক্ষ্য গাজার কৌশলগত এলাকার দখল নেওয়া। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ইজরায়েল ও গাজার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। আর এর জেরে গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। তাই সেখানে অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য প্রবল চাপ রয়েছে ইজরায়েলের উপর। আমেরিকার মতো বন্ধু দেশও এই নিয়ে দু’মাস আগে থেকে চাপ বাড়িয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরে পোপ চতুর্দশ লিও-ও গাজায় খাবার পাঠানোর পক্ষে সওয়াল করেন।
তবে অবরোধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘরের মধ্যে প্রবল চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। তাঁর সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতমার বেন জিবির এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘হামাসের হাতে ইজরায়েলি পণবন্দিরা কিন্তু কোনও মানবিক সহায়তা পাননি। প্রধানমন্ত্রী বড়সড় ভুল করতে চলেছেন। হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা প্রয়োজন। তাদের কোনও অক্সিজেন দেওয়া চলবে না।’ সরকারের মধ্যে নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।