


নয়াদিল্লি: ধনী আরও ধনী হচ্ছে। গরিব আরও গরিব। আম আদমির কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশে এটাই বাস্তব। সেকথা আবারও উঠে এল অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর ফিনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টেবিলিটির পক্ষ থেকে বুধবার প্রকাশিত ‘ওয়েলথ ট্র্যাকার ইন্ডিয়া ২০২৬’ রিপোর্টে। তাতে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫, এই ছ’বছরের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ধনী পাঁচজনের সম্পদের পরিমাণ ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের ১ হাজার ৬৮৮ জন ‘অতি বড়লোকে’র উপর সম্পদ কর চাপানোর জন্য ‘ট্যাক্স দ্য টপ’ ক্যাম্পেন শুরু করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, সত্যিই যদি ওই ধনীদের সম্পদের উপর ২-৬ শতাংশ ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ চাপানো যায়, তবে ১০ লক্ষ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা পড়বে। তা দিয়ে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাখাতে জিডিপির অতিরিক্ত ১ শতাংশ ব্যয় করা সম্ভব হবে। আর বয়স্কদের পেনশন খাতে মাসে ১২ হাজার টাকা করেও দিতে পারবে সরকার।
যাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি, তাদেরই ‘অতি বড়লোক’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। তাদের মিলিত সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৬ লক্ষ কোটি টাকায়। দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশই কুক্ষিগত রয়েছে এঁদের হাতে। রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সম্পদ ১৫৩ শতাংশ বেড়েছে। এই অর্থের উপর ২ শতাংশ ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ চাপিয়ে প্রাপ্ত অর্থে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের তিন বছর ধরে ল্যাপটপ দেওয়া সম্ভব হবে। আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির সম্পদ বেড়েছে ৬২৫ শতাংশ। সেই আয়ের উপর ২ শতাংশ ওয়েলথ ট্যাক্স চাপিয়ে দু’বছর ধরে সারা দেশের প্রাথমিক চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা যাবে। তাছাড়া দেশের ৮ কোটি মানুষকে এয়ার পিউরিফায়ারও দেওয়া যাবে। এতে দূষণের কবল থেকে তাঁরা মুক্তি পাবেন।
সংস্থার ডিরেক্টর অনির্বাণ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, দেশে এখন দু’ধরনের মানুষ বাস করেন। হাতেগোনা কয়েকজনের সম্পদ লক্ষ কোটি টাকা স্পর্শ করেছে। আর একদল দেনার দায়ে ভারাক্রান্ত। এদের বেশিরভাগই প্রান্তিক সমাজের মানুষ। দৈনন্দিন খরচ জোগাড়ে তারা হিমশিম খাচ্ছে।