


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: এবার তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলার সমস্ত তথ্য থাকবে পুণ্যার্থীদের মুঠোয়। শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে এবারই চালু হচ্ছে ওয়েবসাইট। মন্দিরে জল ঢালার সূচি, ট্রেন ও বাসের সময়, শৌচালয়, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিসেবা সহ সমস্ত তথ্য থাকবে এই ওয়েবসাইটে। আগামী কাল, ১০ জুলাই মেলার সূচনা হবে। চলবে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। এই মেলাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মঙ্গলবার তারকেশ্বরে বৈঠক করলেন রাজ্যের সাতজন মন্ত্রী।
এই বৈঠকে মন্ত্রীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, পুলক রায়, বেচরাম মান্না, স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও ইন্দ্রনীল সেন। এছাড়াও ছিলেন ধনেখালি, তারকেশ্বর, চাঁপদানি ও হরিপালের বিধায়ক, জেলাশাসক মুক্তা আর্য, এসডিও এবং দশটি দপ্তরের সচিব। বৈঠক হয় তারকেশ্বরে পর্যটন দপ্তরের একটি সভাকক্ষে। বৈঠক শেষে মন্ত্রীরা তারকেশ্বর মঠের প্রধান সুরেশ্বর আশ্রম মহন্ত মহারাজের সঙ্গে দেখা করেন।
অরূপ বিশ্বাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আজ আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। শ্রাবণী মেলাকে সফল করতে হলে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। দপ্তর ধরে ধরে এদিন আলোচনা হয়েছে। জেলাশাসক ও হুগলি গ্রামীণ জেলার পুলিস সুপার বলেন, মেলাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারকেশ্বরের সমস্যা হল, এখানে রাস্তাগুলি মাত্র ১২-১৩ ফুট চওড়া। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল হয়ে পড়ে। একারণে তাঁরা সকলের সহযোগিতা চান। বেচারাম মান্না বলেন, শেওড়াফুলির নিমাইতীর্থ ঘাট সহ ১৬টি ঘাট থেকে গঙ্গাজল নিয়ে এসে মন্দিরে ঢালার পর থেকে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত পুণ্যার্থীদের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। গঙ্গার ঘাটে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। যাতে গঙ্গায় নেমে কেউ তলিয়ে না যান, সেকারণে পাড়ের কাছে জাল লাগানো হয়েছে। তারকেশ্বর মঠের মহারাজ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলি কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। নতুন ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে। কোনখানে পানীয় জল মিলবে, শৌচালয় কত দূরে, বিনামূল্যে পুণ্যার্থীরা কোথায় খাবার পাবেন, বাস ও ট্রেনের সময়সূচি, মন্দির খোলা ও বন্ধের সময়— সবই থাকবে ওয়েবসাইটে। তারকেশ্বর থেকে বালি ব্রিজ, হাওড়া ও ধর্মতলা যাওয়ার জন্য সরকারি বাসের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। সারা রাত ট্রেন চালানোর জন্য রেলের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র