


নিউ ইয়র্ক: ইরানে সামরিক অভিযান কেন? এই নিয়ে বারবার বয়ান বদলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কখনও তাঁর দাবি, ইরানের বর্তমান সরকারকে উত্খাত করতে সেদেশের সাধারণ মানুষকে সাহায্য করছেন তিনি। আবার কখনও তাঁর হুংকার, তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়ার জন্যই এই আক্রমণ। তবে, এখনও পর্যন্ত ইরানে কোনো অভ্যুত্থান বা গণবিক্ষোভ-কোনোটাই দেখা যায়নি। যুদ্ধ থামানোর কোনো ইঙ্গিতও দেয়নি তেহরান। তার মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করলেন, ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর মন্তব্য, ‘আমরা পশ্চিম এশিয়ায় এই বিশাল সামরিক তৎপরতা গুটিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছি।’
যদিও ট্রাম্পের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। কারণ, ইতিমধ্যেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের কাছে আরও ২০ হাজার কোটি ডলার অনুদান চেয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ইরানের অভিমুখে একের পর এক যুদ্ধজাহাজও পাঠাচ্ছেন তিনি। মোতায়েন করা হচ্ছে মেরিন কোরের কয়েক হাজার সদস্যকে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমশ ঊর্দ্ধমুখী। ইরানে তেল কেনার ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে ছাড়পত্র দিয়েছে ওয়াশিংটন। তাহলে কি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি মেটানোর জন্যই কি যুদ্ধ শেষ করার বার্তা দিচ্ছেন ট্রাম্প?
ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে তাত্পর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট আন্দাজ করেছিলেন, ইরানে অভিযান শেষ হতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগবে। শনিবার অভিযানের ৩ সপ্তাহ পূর্ণ হল। মার্কিন সেনা অসাধারণ কাজ করছে। লেভিটের মন্তব্য, ‘ইরানের শাসন ব্যবস্থা পঙ্গু হয়ে পড়ছে এবং আমেরিকা ও আমাদের মিত্র দেশগুলিকে আক্রমণের ক্ষমতা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।’ এদিকে, পারসি নববর্ষের প্রথম দিনেও ইরানে মৃত্যুর খবর মিলেছে। কিয়াশহরের দস্তক গ্রামে মিসাইলের আঘাতে প্রাণ গেল দুজনের।