


ড. মনমোহন বৈদ্য: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি ফলাফল সমগ্র দেশকে বিস্মিত ও আনন্দিত করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমার বেঙ্গল (বঙ্গদেশ) সফরের সুযোগ হয়েছিল। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ অবশ্যই পরিবর্তন চেয়েছিলেন, কিন্তু খুব কম লোকই সত্যিই বিশ্বাস করেছিলেন যে এই ধরনের পরিবর্তন আসলে সম্ভব হতে পারে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে পরিবর্তনকে অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম কিছু মনে হয়নি। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় উন্মুক্ত ও ভয়হীন পরিবেশ তৈরি করাই ছিল সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। তবুও, নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।
এবার বাংলার মানুষ অভূতপূর্ব সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। পূর্ববর্তী পাঁচটি নির্বাচনে (২০০১, ২০০৬, ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১), গড় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৯.২২%, যেখানে ২০২৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৯২.৪৭%-এ দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে প্রায় ১৩% ভোটার বৃদ্ধির পিছনে ‘স্যার’ (এসআইআর)-এর অবদান অস্বীকার করা যায় না। একইসঙ্গে, এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি মানুষের ভয়হীন পরিবেশ এবং অসাধারণ উদ্দীপনাকেও প্রতিফলিত করে। সমাজ যে এই নির্বাচনকে একটি সভ্যতার লড়াই হিসেবে দেখেছিল, নিরাপত্তা বাহিনী যে তাদের দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করেছে এবং মানুষ যে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে আশ্বস্ত হয়েছিল—এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলিকেও উপেক্ষা করা যায় না।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, কলকাতায় আমি একজন প্রবীণ মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করেছিলাম যিনি দৃঢ়ভাবে বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী। ২৯ মে আমি তাঁর সঙ্গে আবার কথা বলি। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, আঠারো বছর বয়সে তিনি তাঁর প্রথম ভোট দিয়েছিলেন এবং ২০২৬ সালে, তিনি আবারও ভোট দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ছেচল্লিশ বছর। পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং পরিবর্তন যে সত্যিই সম্ভব এই বিশ্বাসই ছিল ভোটারদের। যা এই উপচে পড়া উপস্থিতির অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনে সহিংসতার এক ইতিহাস ছিল বাংলার। এই ধরনের প্রেক্ষাপটে, এবারের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। এর কৃতিত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও দেওয়া যেতে পারে। আর সেই কারণেই মানুষ নির্ভয়ে বেরিয়ে এসে তাঁদের ভোট দিয়েছেন।
এই নির্বাচন কেবল বিজেপির জয় ছিল না। বাংলার
মানুষ ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং হিন্দুত্বের ভাবাদর্শের জয় নিশ্চিত করেছেন। মনে হচ্ছে বাংলার আত্মা যেন
আরও একবার জেগে উঠেছে। এটি রামকৃষ্ণ পরমহংস,
স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীঅরবিন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশচন্দ্র বসু, বিপিনচন্দ্র পাল এবং আধ্যাত্মিক ও জাতীয় জাগরণের আরও অসংখ্য মহান পথপ্রদর্শকের বাংলার জয়।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ও ‘বন্দে মাতরম্’,
এই মুহূর্তটি আমাকে ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রস্তাবিত বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই সময়ে, ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে বাংলা অদম্য শক্তি, অভূতপূর্ব ঐক্য এবং একটি শক্তিশালী জাতীয় চেতনার উত্থান দেখেছিল। সেই জাগরণের তীব্রতা এতটাই বিপুল ছিল যে তা অবশেষে ব্রিটিশ সরকারকে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিল। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ প্রশাসন ১৯১১ সালে তাদের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করতেও বাধ্য হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, বাংলার নির্বাচনে ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং হিন্দুত্বের ভাবাদর্শের জয়কে যথার্থই বাংলার ‘বন্দে মাতরম্’ বলা যেতে পারে। ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালে তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের জন্য লিখেছিলেন। ১৮৯৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একটি অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথমবার এটি গেয়েছিলেন। এরপর, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ব্রিটিশ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়, বাংলার মানুষ ‘বন্দে মাতরম্’-কে স্বাধীনতা আন্দোলনের রণমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে।
প্রস্তাবিত বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশ সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। লালা লাজপত রায়, বাল গঙ্গাধর তিলক এবং বিপিনচন্দ্র পাল—যাঁরা ‘লাল-বাল-পাল’ নামে পরিচিত ছিলেন—সবাই তাঁদের নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি গাওয়ামাত্রই মানুষের মধ্যে অদম্য শক্তি ও জাতীয় চেতনার সঞ্চার হত। অসংখ্য বিপ্লবী মুখে হাসি নিয়ে ফাঁসির মঞ্চকে আলিঙ্গন করেছিলেন এবং ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি দিয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
বঙ্গভঙ্গের ব্রিটিশ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম্’-এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর, রবিবার কলকাতায় পালিত রাখি-বন্ধন উৎসব ছিল ঐতিহাসিক এবং গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত রাখি-বন্ধন শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অর্থাৎ আগস্ট মাসে পড়ে। তবে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ১৬ অক্টোবর কলকাতাজুড়ে হিন্দু ও মুসলিম নর-নারী পবিত্র গঙ্গায় স্নান করেন, একে অপরের কবজিতে রাখি বাঁধেন। প্রতিজ্ঞা করেন যে, এই রেশমি সুতো যেভাবে আমাদের একত্রে বেঁধে রেখেছে, ঠিক সেভাবেই তাঁরা বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ রাখবেন এবং এটিকে কখনোই বিভক্ত হতে দেবেন না।
শ্রীঅরবিন্দই প্রথম ‘বন্দে মাতরম্’-কে স্বাধীনতার মন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। জাতীয় চেতনা জাগ্রত করতে তিনি ‘বন্দে মাতরম্’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৪৭ সালের আগে, ১৯০৭ সালে জার্মানিতে মাদাম ভিকাজী কামা কর্তৃক উত্তোলিত স্বাধীন ভারতের পতাকায় ‘বন্দে মাতরম্’ শব্দটি খচিত ছিল। তখন থেকেই ‘বন্দে মাতরম্’ হয়ে ওঠে স্বাধীনতার বন্দনাগীতি, দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণার গান এবং বিপ্লবীদের চেতনার মন্ত্র।
‘বন্দে মাতরম্’ দ্বারা প্রজ্বলিত বিপ্লবী অগ্নিশিখায় আতঙ্কিত হয়ে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৬ সালের এপ্রিলে এর প্রকাশ্য গান নিষিদ্ধ করে। তবুও এই দমনপীড়ন বাংলায় আরও বেশি উদ্দীপনা ও শক্তির জন্ম দিয়েছিল এবং শেষপর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারকে বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিল।
এই শক্তি ও উদ্দীপনা কেবল বাংলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই জাগরণের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র দেশে। ১৯০৭ সালে নাগপুরে, সংঘের ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠাতা এবং তৎকালীন দশম শ্রেণির ছাত্র ড. হেডগেওয়ার জনসমক্ষে ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি দেন এবং স্কুলের কর্তৃপক্ষের কোপানলে পড়েন। ফলস্বরূপ, তাঁকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর থেকে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিটি
বার্ষিক অধিবেশনে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি গাওয়া হতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পণ্ডিত বিষ্ণু দিগম্বর পলুস্কর এবং ওঙ্কারনাথ ঠাকুরের মতো বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞরা এতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের সমস্ত সদস্য—তিনি হিন্দু বা মুসলিম যাই হোন না কেন—স্বাধীনতা আন্দোলনের জীবনবায়ু হিসেবে এটি গাইতেন।
বিভাজনের রাজনীতি ও ‘বন্দে মাতরম্’-এর অপব্যাখ্যা
যাই হোক, ১৯২১ সালের পর, ব্রিটেনের বিভেদমূলক রাজনীতির প্রভাবে কংগ্রেসের মধ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। ফলস্বরূপ, এমন কিছু প্রবণতার উদ্ভব হয় যা খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল এবং ‘বন্দে মাতরম্’-কে সাম্প্রদায়িক তকমা দিয়ে এর বিরোধিতা করেছিল। ১৯২০ সাল পর্যন্ত যে গানটিকে স্বাধীনতা আন্দোলনের জীবন-মন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হত, ১৯২৩ সালের পর থেকে তাকে সাম্প্রদায়িক বলা শুরু হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, এখান থেকেই ভারতের বিভাজনের বীজ বপন করা শুরু হয়েছিল।
ভারতীয় চিন্তাধারায় মানুষকে কেবল একটি ভৌতিক শরীর হিসেবে দেখা হয় না, বরং শরীর, প্রাণ, মন, বুদ্ধি এবং আত্মা—এই পাঁচটি স্তর বা পঞ্চকোষ বিশিষ্ট অস্তিত্ব হিসেবে দেখা হয়। একইভাবে, ‘বন্দে মাতরম্’ ভারতের সম্পূর্ণ রূপকে উপস্থাপন করে। এর প্রথম স্তবকে ভারতের ভূখণ্ডের বর্ণনা রয়েছে; দ্বিতীয় স্তবকে ভারতের জনগণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে; আর পরের স্তবকগুলিতে ভারতের মন, বুদ্ধি, প্রাণ এবং আধ্যাত্মিক চেতনা চিত্রিত হয়েছে।
‘তুমি বিদ্যা, তুমি ধর্ম’—এখানে ‘বিদ্যা’ বলতে ভারতের সেই আধ্যাত্মিক জ্ঞানকে বোঝায় যা মুক্তির পথ শেখায়। আর ‘ধর্ম’ (রিলিজিয়ন বা উপাসনা পদ্ধতি নয়) মানে হল ব্যক্তিগত ‘আমি’-র প্রাধান্য হ্রাস করা, সমষ্টিগত ‘আমরা’-র ভাব প্রসারিত করা এবং আপনত্বের অনুভূতি নিয়ে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া। ভগিনী নিবেদিতা লক্ষ্য করেছিলেন যে, মানুষ যখন তাদের শ্রমের পারিশ্রমিক কেবল নিজেদের জন্যই রেখে দেয় না বরং তা সমাজে ফিরিয়ে দেয়, তখন সেই সমাজ সামাজিক পুঁজি সঞ্চয় করে, সমৃদ্ধ ও উন্নত হয় এবং এর মধ্যকার প্রতিটি ব্যক্তিকে বিকশিত হতে সাহায্য করে। এটাই হল ‘ধর্ম’। সেই অর্থে, সমাজের সামাজিক পুঁজিকে সমৃদ্ধ করাই হল ‘ধর্ম’। সেই কারণেই, স্বাধীনতার পর ভারতের নেতৃত্ব সচেতনভাবে লোকসভার জন্য ‘ধর্মচক্রপ্রবর্তনায়’, রাজ্যসভার জন্য ‘সত্যং বদ, ধর্মং চর’, সুপ্রিম কোর্টের জন্য ‘যতো ধর্মস্ততো জয়ঃ’-এর মতো আদর্শগুলি গ্রহণ করেছিলেন এবং জাতীয় পতাকায় ধর্মচক্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এই বিদ্যা এবং এই ধর্ম ভারতমাতার হৃদয়ে বাস করে; এগুলোই ভারতের মূল জীবনীশক্তি।
ভারতমাতা হলেন শক্তির দেবী দুর্গা, সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী এবং জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর সম্মিলিত রূপ। এটাই ভারত। ঠিক এই কারণেই, ১৯০৫ সাল থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনগুলিতে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি গাওয়া অব্যাহত ছিল। সম্পূর্ণ রচনাটি গাইতে প্রায় তিন মিনিট সময় লাগে। তাহলে এই ভাবনায় সাম্প্রদায়িকতা কোথায়?
পরবর্তীকালে, বিভেদমূলক ও সাম্প্রদায়িক উপাদানের প্রভাবে এর বিরুদ্ধে বিরোধিতা শুরু হয়—যে ধারা কোনো না কোনো আকারে আজও চলছে। যাঁরা এর মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা দেখেন, তাঁরা কেবল ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি নিজেদের অজ্ঞতাই প্রকাশ করেন। অন্যথায়, মনে হয় তাঁরা হয় সেই বিভেদমূলক শক্তির অংশ অথবা তাদের হাতের অজান্তের পুতুল, যারা একসময় ব্রিটিশ শাসনের সেবা করেছিল এবং আজ ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তবুও ‘বন্দে মাতরম্’ ভারতের আত্মাকে আন্দোলিত করেছিল। এটি জাতীয় চেতনা জাগ্রত করেছিল এবং প্রতিটি হৃদয়ে স্বাধীনতার স্পৃহা প্রজ্বলিত করেছিল। ঠিক এই কারণেই বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এত ব্যাপক গণবিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল যে ব্রিটিশ সরকার শেষপর্যন্ত তার প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। সম্প্রতি, ভারত সরকার ‘বন্দে মাতরম্’-কে আরও বেশি প্রাধান্য দিয়েছে এবং সম্পূর্ণ রচনাটি গাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে। এটি অত্যন্ত উপযুক্ত এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
২০২৬ সালের নির্বাচন এবং বাংলার পুনর্জাগরণ
২০২৬ সালের বাংলার নির্বাচনি ফলাফল ১৯০৫ থেকে ১৯১১ সালের মধ্যে বাংলার সেই জাগরণ, সংকল্প, জাতীয় চেতনা এবং নিষ্পত্তিমূলক সক্রিয়তার স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। এই নির্বাচন ভাষাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বাংলাকে আলাদা করার সমস্ত প্রচেষ্টাকে চূর্ণ করে দিয়েছে। যদিও বাংলা ভাষা স্বতন্ত্র, তবুও এর পরিচয় ভারতের আধ্যাত্মিক পরিচয় থেকে আলাদা নয়; বরং এটি তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই নির্বাচনের ফলাফল সেই সত্যকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
১৯০৫ সালে যেভাবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি এবং জিহাদি চরমপন্থীরা ভারতের জাতীয় পরিচয়কে দুর্বল করতে একসঙ্গে কাজ করছিল, ঠিক তেমনি ২০২৬ সালেও কাণ্ডজ্ঞানহীন রাজনীতিক, জিহাদি চরমপন্থী এবং সাংস্কৃতিক মার্কসবাদীরা ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক ছিন্ন করতে একযোগে কাজ করছিল। ১৯০৫ এবং ২০২৬ উভয় সময়েই, বাংলার হিন্দুরা তাদের অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। মনে হচ্ছে যেন রামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীঅরবিন্দ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলার চেতনা ও পরিচয় আবার জেগে উঠেছে। ভারতের সর্বসমাবেশী, সমন্বিত এবং আধ্যাত্মিক জীবনদর্শন—ভারতের ‘হিন্দুত্ব’—আবারও একটি স্পষ্ট এবং শক্তিশালী প্রকাশ খুঁজে পেয়েছে।
যে সমস্ত সরকারি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এই ফলাফল সম্ভব করেছেন এবং বাংলার সেই সমস্ত নারী ও পুরুষ যাঁরা অভূতপূর্ব সংখ্যায় নির্ভয়ে বেরিয়ে এসে ভোট দিয়ে অসাধারণ সাহস ও সংকল্প প্রদর্শন করেছেন, তাঁরা সকলেই আন্তরিক অভিনন্দনের পাত্র। গণতন্ত্রের প্রতি তাঁদের প্রতিশ্রুতি এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই এই ঐতিহাসিক ফলাফলকে সম্ভব করে তুলেছে।
নিঃসন্দেহে, এটি বাংলার ‘বন্দে মাতরম্ মুহূর্ত’।
লেখক অখিল ভারতীয় কার্যকারিণী সদস্য, আরএসএস (মতামত ব্যক্তিগত)