


নয়াদিল্লি: ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে মজুত ছিল ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম। মার্কিন হামলার পর তা উধাও হয়ে গিয়েছে। এমনই দাবি আমেরিকার। কিন্তু এত কম সময়ে এই বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম কোথায় সরানো হল? উত্তর জানা নেই বাইরের কারও কাছে। যদিও ইজরায়েলের দাবি, ইরানের অন্য কোনও গোপন গবেষণা কেন্দ্রে সরানো হয়েছে ওই বিপুল পরিমাণ তেজষ্ক্রিয় পদার্থ।
তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করেই হামলা চালায় ইজরায়েল। পাল্টা জবাব দেয় ইরান। পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত আরও ঘোরাল হয় আমেরিকার হস্তক্ষেপে। ইরানের তিন পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। এরপর ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাও করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু এই ঘটনাবলীর মধ্যে একটা বিষয় সংশ্লিষ্ট মহলকে ভাবতে বাধ্য করেছে। তা হল, আমেরিকা ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে আক্রমণ চালানোর পরও কেন তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ ছড়াল না?ইজরায়েলও ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়েছে। যেভাবে হামলা হয়েছে তাতে মারাত্মক ক্ষতি হওয়াই ছিল স্বাভাবিক। তেহরান অবশ্য গোড়া থেকেই দাবি করে আসছে, এমন কোনও ক্ষতি হয়নি। এতটুকু তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি।
আর তাতেই সন্দেহ বাড়ে। তবে কি অন্য কোথাও ইউরেনিয়াম সরিয়েছে ইরান? সামনে আসে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রের উপগ্রহ চিত্র। হামলার আগের এবং পরের। দেখা যায়, মার্কিন হামলার আগে সেখানে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অনেকগুলো ট্রাক। অথচ হামলার পরের ছবিতে একটাও ট্রাক নেই। এর থেকেই অনুমান, ওই ট্রাকে করেই সরানো হয়েছে ইউরেনিয়াম। বিষয়টা কতটা বাস্তবিক সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু উপগ্রহ চিত্র অস্বীকারেরও উপায় নেই। আবার হামলা পরবর্তী উপগ্রহ চিত্র থেকে বোঝা যায় মার্কিন হামলায় কতটা ক্ষতি হয়েছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলির। সত্যিই যদি ইউরেনিয়ামের মতো তেজষ্ক্রিয় পদার্থ সেখানে থাকত, তাহলে মারাত্মক কিছু ঘটতে পারত। সুতরাং ইরান ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলেছে বলে যে দাবি ইজরায়েল তুলেছে, তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এই ঘটনায় আরও একটা প্রশ্ন উঠে আসছে। সত্যিই কি ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছিল? তা নিয়ে আবার নানা মুনির নানা মত। কেউ বলছেন, এব্যাপারে ইজরায়েল ও আমেরিকার দাবি সঠিক। আবার অনেকেই বলছেন, ইরান শুরু থেকেই ওই দাবি অস্বীকার করে এসেছে। এর পরবর্তী ঘটনায় ইরানের দাবিরই সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। যদিও সবমিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল।