


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: কোন ব্লকের প্রার্থী জিতবে? সাগর নাকি নামখানা, কোন দলের প্রার্থীর দিকে পাল্লা ভারী? তা নিয়েই জোর চর্চা সাগর বিধানসভা কেন্দ্রে। কারণ আর পাঁচটার মতো নয়, সাগর হল ব্যতিক্রমী একটি বিধানসভা কেন্দ্র। নামখানা ও সাগর এই দু’টি ব্লক নিয়ে এই বিধানসভা কেন্দ্র গঠিত। তবে রাজনীতির ময়দানে পাল্লা ভারী থাকে সাগরের। বিধানসভা ভোটে এই ব্লক থেকেই বেশিরভাগ সময়ে প্রার্থী নির্বাচন করে বিভিন্ন দল। কালেভদ্রে শিকে ছেঁড়ে নামখানার। এবার বিজেপি নামখানা ব্লকের বাসিন্দাকে প্রার্থী করে ভোটের আসরে নেমেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল ও সিপিএম প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাগর ব্লকের উপরেই ভরসা রেখেছে। তাই এই বিধানসভা ক্ষেত্রজুড়ে এখন একটাই চর্চা, কোন ব্লকের প্রার্থী বাজিমাত করবেন?
ইতিহাস বলছে, সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ একেবারেই আলাদা। বামেদের ভরা জোয়ারেও ১৯৮৩ সালে নামখানা পঞ্চায়েত সমিতি দখল করেছিল কংগ্রেস। এমনকি, ২০০৩ সাল থেকে এই পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূলের দখলে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাগর বিধানসভার নামখানা ব্লকের বাসিন্দারা মূলত দক্ষিণপন্থী দলকেই জিতিয়ে এসেছেন। তাই বিজেপির নামখানা থেকে প্রার্থী করলেও ভোটবাক্সে তার প্রতিফলন কতটা পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নামখানা ব্লকে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতা অনুপ সামন্ত বলেন, ‘গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে নামখানা ব্লকে বিজেপি তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। এবার বিধানসভা নির্বাচনে নামখানা থেকে বিজেপি লিড পাবে। সাগরেও ভালো ফল হবে। তৃণমূলের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা নামখানা ব্লকে উন্নয়নের কোনো কাজ করেননি। তিনি মূলত সাগরের উন্নয়ন করেছেন। বিজেপি জিতলে এবার নামখানা ও সাগর— দু’টি ব্লকেই উন্নয়ন হবে।’ নামখানায় সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক সজল ঘোড়ই বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী নামখানা নাকি সাগর থেকে করা হল, সেটা বড়ো কথা নয়। সিপিএম গরিব, খেটে খাওয়া মানুষের লড়াইয়ের সঙ্গে থাকে। তিনি যে ব্লকেই থাকুন না কেন।’
নামখানা ব্লকের তৃণমূল সভাপতি ধীরেনকুমার দাস বলেন, ‘এই বিধানসভায় কোন ব্লক থেকে প্রার্থী হল, সেটা বড়ো ব্যাপার নয়। এই ব্লকে অতীতের তুলনায় অনেক বেশি উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়াও বিধায়ক বঙ্কিমবাবু সারাক্ষণই মানুষের পাশে থাকেন। বিজেপির কোনো রণকৌশলই এই বিধানসভা কেন্দ্রে প্রভাব ফেলবে না।’