


পরামর্শে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অপূর্ব মুখোপাধ্যায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে বদলায় শরীরে পুষ্টির চাহিদাও। শৈশবে শরীরের বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখা, যৌবনে কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা বা বার্ধক্যে হাড়ের কাঠামো মজবুত করা— জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই রয়েছে ভিটামিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ।
শৈশব ও কৈশোর
শিশুর বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে ভিটামিন এ এবং সি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ও চোখের কর্নিয়ার স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এই ভিটামিনের ঘাটতিতে রাতকানা রোগ হতে পারে।
১৯-৩৫ বছর
এই বয়সে কর্মব্যস্ত জীবন সামলাতে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিটামিন বি১, বি৬ ও বি১২ শরীরে শক্তি উৎপাদন, স্নায়ুর কার্যকারিতা ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। তবে নিরামিষাশী এবং দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভোগার কারণে মেটফরমিন সেবনকারীদের মধ্যে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে এই বর্গের মানুষ নির্দিষ্ট সময় অন্তর শরীরে বি১২-এর মাত্রা পরীক্ষা করান। প্রয়োজনে ডায়েটে পরিবর্তন আনুন।
৩৬-৫০ বছর
হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যরক্ষায় ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিন শরীরে ক্যালশিয়াম শোষণে সাহায্য করে।
এখন বেশিরভাগেরই অফিসের ঘেরাটোপে কাটে কর্মজীবন। এদিকে বায়ুমণ্ডলও দূষণে আক্রান্ত। পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাব ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকের শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হতে পারে। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, মেনোপজের পর একজন নারীর হাড় মজবুত রাখতে ভিটামিন ডি-এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই মহিলারা অবশ্যই মেনোপজের পর, চিকিত্সকের পরামর্শ অনুসারে খান ওষুধ, কুসুমসুদ্ধ ডিম। পাশাপাশি কিছুটা সময় রৌদ্রে কাটান।
বয়স যখন ৬০ প্লাস
বয়স বাড়লে কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ভিটামিন সি এবং ই। সাইট্রাস জাতীয় ফল, শাকসবজি, বাদাম ও নানা ধরনের বীজ থেকে এই ভিটামিনগুলি পাওয়া যায়।
নারীদের জন্য বিশেষ পুষ্টি
গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে কিংবা সন্তানসম্ভবা হলে, অবশ্যই ফোলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি৯-এর জোগানের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে ভ্রূণের বিকাশে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ওই জরুরি সময়ে আয়রনের ঘাটতিতে দেখা দিতে পারে রক্তাল্পতা। সেই অভাবও পূরণ করা দরকার।
শেষ কথা
সব বয়সে সব ভিটামিনই কমবেশি শরীরের দরকার। তাই বয়স নির্বিশেষে প্রয়োজন সুষম খাদ্য গ্রহণ।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক