


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কাল, শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মুর্শিদাবাদ সফর। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি রেজিনগরে রাজনৈতিক জনসভার দিকে তাকিয়ে রয়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রে হুমায়ুনের পার্টির কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নিতে পারবে কি রাজ্যের শাসকদল? পদ্ম শিবিরের প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে দলের অন্দরে। শুভেন্দুর সভার পরই পদ্মের টিকিট কে পাচ্ছেন তা পরিষ্কার হতে পারে।
উল্লেখ্য, আগামী দু’মাসের মধ্যে রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হবে। একইসঙ্গে নওদা এবং রেজিনগর থেকে বিধানসভা ভোটে জিতেছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। রেজিনগর আসন থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। সেকারণে ফাঁকা এই কেন্দ্রে নিবার্চন আসন্ন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিজেপি এখানে ঘর গোছাতে শুরু করেছে। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন প্রায় প্রতিদিনই রেজিনগরে রাজনৈতিক কর্মসূচি করছেন। কয়েকদিন আগে রেজিনগরে বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজনের একটি বক্তব্যের পালটা দিতে গিয়ে হুমায়ুন উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। সেইসময় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুনকে সতর্ক করেন শুভেন্দু। খুব শীঘ্রই তিনি মুর্শিদাবাদে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই শুক্রবার রেজিনগরের সভা থেকে শুভেন্দুবাবু কী রাজনৈতিক বার্তা দেন সেদিকে তাকিয়ে আছে গোটা জেলা।
গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীর এক লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পান। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপির বাপন ঘোষ। তিনি ৬৪হাজার ৬৬০টি ভোট পেয়েছেন। হুমায়ুনের চেয়ে তিনি ৫৮হাজার ৮৭৬ ভোটে পিছিয়েছিলেন। তৃণমূলের আতাউর রহমান ৪১হাজার ৭১৮টি ভোট পান। রেজিনগরে এবার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির তরফে হুমায়ুনের ছেলেকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। ৭২ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে এই বিধানসভা কেন্দ্রে। তা সত্ত্বেও বিজেপি এই আসন ছিনিয়ে নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের ভোট বৈতরণী পার করার জন্য দল কার উপর ভরসা রাখবে তা নিয়েই দলের অন্দরে তুমুল চর্চা চলছে।
বিজেপি প্রার্থী পরিবর্তন করবে নাকি বাপনের উপর ভরসা রেখে ভোটপ্রচারে নামবে তা সময়ই বলবে। তবে বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার দু’-একজন নেতা রেজিনগরের টিকিট পাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন। অপরদিকে, সাংগঠনিকভাবে ছন্নছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে এখনও কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। কংগ্রেসও এখানে বেশ দুর্বল। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জিল্লু শেখ মাত্র চার হাজার ভোট পেয়েছেন। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার এক বিজেপি নেত্রী বলেন, এবার দল ভালো ফলাফল করবে। আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। প্রার্থী হিসেবে দল কাকে বেছে নেয় সেটাই এখন দেখার। শুভেন্দু অধিকারীর সভা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সভার পর একটা আভাস পাওয়া যেতে পারে। বিজেপির রাজ্য কমিটির পদাধিকারী এক নেতা বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রশাসনিক সভার পাশাপাশি রাজনৈতিক সভা করবেন শুভেন্দুবাবু। প্রশাসনিক সভা থেকে একাধিক নতুন প্রকল্প এবং কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে। যা রেজিনগরের আগামী ভোটে প্রভাব পড়বে। দল যাকেই প্রার্থী করবে আমরা সকলেই তাঁকে জেতানোর জন্য মরিয়া হয়ে লড়াইয়ে ঝাঁপাব।