


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশের গুলিতে মৃত্যু বারুইপুর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। এই এনকাউন্টারের ঘটনায় বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন গভীর রাতে অভিযুক্তকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? সেখানে ঠিক কী কী ঘটেছিল? কার নির্দেশে পুলিশ এই কাজ করেছিল? সেই সক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য হলফনামা আকারে জমা দিতে বলেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।
বারুইপুরে কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তারির পর কয়েক দিনের মধ্যে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, পুলিশের হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় প্রভাস। পালানোর চেষ্টা করে। তখনই পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। সেই এনকাউন্টারের ঘটনা নিয়েই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন শিলাদিত্য রক্ষিত নামে এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার শুনানিতে তাঁর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, ‘আমার অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। ওই ব্যক্তি অভিযুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সাক্ষীও ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত পুলিশ হেপাজতে ছিল। ঘটনার পুনর্নির্মাণের নামে রাতের অন্ধকারে নিয়ে গিয়ে তাকে খুন করা হয়েছে।’ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পালটা রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেন, ‘ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইনের সংস্থান রয়েছে। আইন মেনেই কাজ করা হয়েছে।’ যদিও বিকাশ বলেন, ‘কার নির্দেশে রাতের অন্ধকারে অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হল, তা স্পষ্ট নয়।’ রাজদীপের পালটা দাবি, ‘ঘটনার অভিঘাতে স্থানীয় পরিস্থিতি অশান্ত ছিল। তাই রাতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাছাড়া এই ঘটনার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করে তদন্তের ভার সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে।’ যদিও বক্তব্যে অনড় থেকে বিকাশ বলেন, ‘এটা পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের ঘটনা। রাজ্য বিস্তারিত রিপোর্ট দিক।’ অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বন্দোবস্ত থেকে শুরু করে ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ডিং ছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলা হয়েছে মামলায়। ১৮ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি।