


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: পাড়ায় পাড়ায় ‘দিদিভাই’ কর্মসূচি করতে বেরিয়েছিলেন আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। এবারও তাঁর উপর ভরসা রেখেছে দল। সোমবার আসানসোলের ইসমাইল এলাকার অলিগলি ঘোরেন তিনি। সঙ্গী টোটো। হাতে মাইক। তাঁর মুখে কখনও প্রতিশ্রুতি ফুলঝুরি। কখনও কড়া হুঁশিয়ারি। অগ্নিমিত্রা বলছেন, ‘সরকারি জমিতে বসবাস করা মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাবধান! জমি দখল করে রাখা চলবে না। আমাদের সরকার আসবে। তখন যোগীজির রাজ্যের মতোই বুলডোজার চলবে।’ নেত্রীর হুঁশিয়ারিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে শিল্পাঞ্চলে। আসানসোল দক্ষিণে শুধু নয়, জেলার প্রায় প্রতি বিধানসভা এলাকাতেই গরিব মানুষ রেল, সেইল, ইসিএলের জমিতে বহু বছর ধরে বসবাস করছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সত্যিই কি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে? সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূলও। এসবের মাঝে অগ্নিমিত্রাকে বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয়েছে এদিন। অনেক স্থানে তাঁকে শুনতে হয়েছে—‘আমাদের ভোটধিকার বাদ পড়ল কেন?’
আসানসোল পুরসভার স্থানীয় বরো চেয়ারম্যান দেবাশিস সরকার বলেন, বিজেপি মানুষের মাথার উপর ছাদ দিতে পারে না। বাড়িঘর ভেঙে দিতেই শিখেছে। সাধারণ মানুষকে বলব, আতঙ্কিত হবে না তৃণমূল কংগ্রেস থাকতে বিজেপির এহেন অমানবিক স্বপ্ন পূরণ হবে না। ক্ষমতায় আসব আমরাই।’
চাপে পড়ে বিষয়টি নিয়ে পরে ব্যাখা দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি, যে সব ব্যবসায়ী, গুণ্ডা, তৃণমূলের মাফিয়ারা সরকারি জমি দখল করে রেখেছে, তাঁদের রেয়াত করা হবে না। যোগীজির রাজ্যের মতোই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সাধারণ মানুষ যদি সরকারি জমিতে থাকেন, তা হলে নিয়ম মেনে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় আমরা বাড়ি তৈরি কবে দেব।’
কেন্দ্রের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বার বার সরগরম হয়েছে শিল্পাঞ্চলে। আসানসোলে জোর করে রেলপাড়ের ছোট বাজারে উচ্ছেদ করতে গিয়েছিল রেল। বুলডোজারের উপর উঠে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান থামিয়ে ছিলেন ব্যবসায়ীরা। পাশে ছিল তৃণমূল। অণ্ডাল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, কুলটিতেও বহু মানুষ ইসিএলে রেলের জমিতে বসবাস করেন। বিজেপি বাংলাতেই উত্তরপ্রদেশের নীতি নিলে তাঁদের ভবিষ্যত কী হবে, তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন।
এদিন অগ্নিমিত্রা দীর্ঘক্ষণ জনসংযোগ করেন। সেখানে তাঁকে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ইসমাইল ৬০ ফুট রাস্তা দিয়ে সমর্থকদের নিয়ে যাচ্ছিলেন নেত্রী। বিজেপিকে ভোট দিতে বলতেই বাড়ির সামনে বসে থাকা বৃদ্ধ নবকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন,‘ভোটার তালিকা থেকে নামটাই কেটে দিল, ভোট দেব কী! নাম বাদ গেল কেন?’ বেগতিক বুঝে অগ্নিমিত্রা কর্মীদের নির্দেশ দেন, ফর্ম ৬ জমা করে নাম তোলার ব্যবস্থা করতে। আরও এক জায়গায় নেত্রীর কাছে একই অভিযোগ আসে। তিনি বলেন, ‘আমি স্থানীয় নেতৃত্বকে বলেছি, কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন বাদ না পড়ে।’ এদিন বার্নপুরে দামোদরের উপর সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন বিজেপি প্রার্থী।