


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জগৎবল্লভপুরের মধ্য সন্তোষপুরে একটি বাড়ি থেকে এক বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম দুর্গা মণ্ডল (৬৫)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কয়েকদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বৃদ্ধার মাথায় ভারী বস্তুর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। এমনকী, তাঁর মুখে সাঁড়াশি গোঁজা অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ। ঘটনাটি নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক আগে দুর্গাদেবীর স্বামী মারা যান। ছেলে কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে মধ্য সন্তোষপুরের মান্নাপাড়ার দোতলা বাড়িতে একাই বসবাস করতেন তিনি। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার মেয়ের সঙ্গে ফোনে শেষ কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর গত দু’দিন ধরে আত্মীয়রা ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। বাইরের দরজায় তালা ঝোলানো থাকায় কয়েকজন আত্মীয় বাড়ির সামনে গিয়েও ফিরে আসেন।
শুক্রবার সকালে ওই বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। খবর দেওয়া হয় দুর্গাদেবীর আত্মীয়দের। তাঁরা এসে দেখেন, বাড়ির বাইরের তিনটি দরজাই তালাবন্ধ। খবর পেয়ে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই সামনে আসে শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির একতলার একটি ঘরের মেঝেতে পড়েছিল বৃদ্ধার দেহ। পাথর বা লোহার মতো ভারী বস্তু দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁর মুখের ভিতরে সাঁড়াশি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। দেহের এই অবস্থা দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। খুনের পর অপরাধীরা বাড়ির তিনটি দরজাতেই বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। তবে বাড়িতে চুরি বা লুটপাটের চিহ্ন মেলেনি। ফলে খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন মৃতার মেয়ে শ্রাবন্তী পাত্র। তিনি বলেন, ‘সোমবার আমি বাড়িতে এসেছিলাম। মা নিজেই আমাকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ফোনে কথা হয়েছিল। আমি নিশ্চিত, কেউ মাকে খুন করেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, এলাকায় এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তাঁদের দাবি, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুক পুলিশ। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে অনুমান। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জগৎবল্লভপুরের ঘটনাস্থলে পুলিশ আধিকারিকরা। নিজস্ব চিত্র