


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সোমবার অভিযোগকারী তরুণী আদালতে এসে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে জামিনে থাকা যুবককে দেখিয়ে বলেন, ‘উনি আমার স্বামী। আমরা বিয়ে করে দু’জনে সুখে‑শান্তিতে সংসার করছি। ওনার বিরুদ্ধে আমার আর কোনো অভিযোগ নেই। এই মামলা আর আমি চালাতে চাই না। আমার স্বামীকে মুক্তি দেওয়া হোক।’
এদিন কলকাতার বিচারভবনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে এদিন দুপুরে রীতিমতো সেজেগুজে হাজির হন তরুণী। সিঁথিতে চওড়া সিঁদুর। কপালে টিপ। পরনে বেনারসী। হাতে মোটা শাখা। সমস্ত বক্তব্য শোনার পর বিচারক তরুণীর প্রাথমিক সাক্ষ্য নেন। এরপর মামলার যাবতীয় নথিপত্র ও কেস‑ডায়েরি খতিয়ে দেখে ২২ বছরের ওই যুবককে বেকসুর খালাস করে দেন বিচারক। রায় ঘোষণার পর নিমেষে দম্পতির চোখ‑মুখ চিকচিক করে ওঠে। দু’জনেই বিচারককে প্রণাম জানিয়ে এজলাস ছাড়েন। মামলার সরকারি আইনজীবী জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা যুবককের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে শুনানি চেয়েছিলাম। এক্ষেত্রে আদালত যা পদক্ষেপ করার করেছে।’ মুক্তিপ্রাপ্ত যুবকের আইনজীবী আশিসকুমার ঘোষ বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা খুশি। আমার মক্কেল ভালো থাকুন। তাঁরা ভালোভাবে জীবন কাটান, এটাই কামনা করি।’ এদিন ওই দম্পতিকে দেখতে অনেকেই ভিড় জমান বিচারভবনের ওই এজলাসে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে উত্তর কলকাতার বড়তলার বাসিন্দা ওই তরুণী যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন থানায়। পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্তে নামে। বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি পেশ করেন তরুণী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশ তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট পেশ করে। ব্যাঙ্কশাল কোর্ট থেকে মামলাটি বিচারের জন্য যায় কলকাতার বিচারভবনে। সোমবার ছিল চার্জ গঠনের শুনানি। জামিনে থাকা যুবক আদালতে হাজির হন। মামলাটি উঠলে অভিযোগকারিণী যুবকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বেঁকে বসেন। উলটে স্বামীকে বাঁচাতেই মামলা তুলে নেওয়ার আরজি জানান।