


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: ১৬৭ বছরের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। এ যেন সময়ের গোলক-পথে বাংলায় নবজাগরণ! আরও একটু স্পষ্ট করে বললে, হাতঘড়ির দুনিয়ার নতুনত্বের ছোঁয়া। তাও আবার বাংলার চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উপজীব্য করে। হাতঘড়ির ডায়াল তৈরি হয়েছে বাংলা হরফে। ব্যাপারটা বেশ নতুন বা অনন্য। দেশজুড়ে যখন বাংলা ও বাঙালির আবেগ শান দেওয়া চলছে, ঠিক সেই আবহে এই হাতঘড়ি বঙ্গবাসীর কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
গত কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের রাজধানীর বুকে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে বাংলা ভাষা। অভিযোগ সামনে এসেছে, নানা প্রান্তে বাংলাভাষী মানুষজন আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার বাংলাকে ‘বাংলাদেশি’ ভাষা বলে দেগে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এ নিয়ে শাসক, বিরোধী সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই তর্ক-বিতর্ক তুঙ্গে। এই আবহে একটি ঘড়ি কিন্তু রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছে। অন্তত ক্রেতার রিভিউ বা মতামত তেমনই!
হাতঘড়ির ডায়াল বাংলা হরফে লেখা। তাতে বাংলা হরফে লেখা আছে ‘কলিকাতা’ও। সাধারণত ঘড়ির ডায়াল হয় ইংরেজিতে। কিন্তু বাংলা হরফে ঘড়ির ডায়াল একেবারে নতুন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য বাংলা হরফে ডায়াল-যুক্ত এই হাতঘড়ি সামনে এসেছে। এবং তা বাজারে আসতেই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে ক্রেতা আকর্ষণ। ‘ই-বইক্ষেত’ নামে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে তৈরি এই ঘড়িটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুহূর্ত’। দাম ১,২৫০ টাকার আশেপাশে। ঘড়ির ধরন, রং, বেল্ট অনুযায়ী দাম রকমফের।
বাংলা হরফে লেখা প্রথম ঘড়ি আম জনতার চোখে পড়েছিল বউবাজারের ভীমচন্দ্র নাগের মিষ্টির দোকানে। কথিত আছে ওই মিষ্টির দোকানে খেতে গিয়েছিলেন বিখ্যাত ঘড়ি কোম্পানি ‘কুক অ্যান্ড কেলভি’র বড় সাহেব। ওই দোকানে মিষ্টি খেয়ে তিনি মোহিত হন। তখনই তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, দোকানে ঘড়ি নেই কেন? তখন দোকানের কর্ণধার উত্তর দিয়েছিলেন, ঘড়ি কেনা হয়ে ওঠেনি। সে-কথা শুনে বড়সাহেব দোকানে একটি ঘড়ি উপহার দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। কিন্তু মিষ্টির দোকানের কর্মচারীরা ইংরেজি পড়তে পারেন না। তাই মিষ্টির দোকানের কর্ণধার অনুরোধ করেছিলেন, যদি বাংলায় লেখা ঘড়ি পাওয়া যায়, তবে কর্মচারীদের সুবিধা হয়। সেইমতো লন্ডন থেকে বাংলা হরফে লেখা দেওয়াল ঘড়ির ডায়াল তৈরি হয়ে আসে। সেটা ছিল ১৮৫৮ সাল।
তার ১৬৭ বছরের মাথায় ২০২৫ সালে ওই ঘড়ির অনুকরণেই হাতঘড়ি তৈরি হয়েছে। এই হাতঘড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত কিরণ বৈদ্য বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিষয় তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যেখানে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সম্পর্ক থাকবে। আমাদের বাংলা ভাষাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। বাংলা ভাষার জন্য লড়াই, সংগ্রাম করতেও প্রস্তুত আমরা।’