


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: হাসপাতালের কড়া নিরাপত্তা ও পুলিশ ক্যাম্পের নজরদারি এড়িয়ে এক যুবকের মৃতদেহ নিয়ে চম্পট দিল বেশ কয়েকজন। এমনই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। দিনের আলোয় সবার সামনে দিয়ে কীভাবে দেহ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হল? এতে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও পুলিশি দৌড়ঝাঁপের পর অবশেষে বিকেলে মৃতের পাণ্ডবেশ্বরের বাড়িতেই মৃতদেহের খোঁজ মেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ পাণ্ডবেশ্বরের বাসিন্দা অজয় সিং(২১) নামে এক যুবককে সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, ভর্তির সময় ওই যুবক কার্যত সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন। তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা বা ‘সুগার’ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। যুবক নিয়মিত মদ্যপান করত বলে জানিয়েছিল পরিজনরা। ভর্তির মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর জানা মাত্রই, যুবককে যারা হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল, তারা তড়িঘড়ি দেহটি কাঁধে তুলে নিয়ে হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে চম্পট দেয়। বিষয়টি নজরে আসতেই হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফর্মে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু দেখা যায় নম্বরটি ভুয়ো। এরপরেই ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিউড়ি থানায় খবর দিলে ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে এদিন বিকেলে পাণ্ডবেশ্বরে ওই যুবকের বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ। বাড়ির সদস্যদের দিয়ে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির লোক ও বন্ধুরাই নিয়ম না মেনে দেহটি সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
হাসপাতালের সুপার প্রকাশচন্দ্র বাগ বলেন, এভাবে রোগীকে নিয়ে যাওয়া যায় না। হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ নিয়ে চলে যাওয়ার পরেই আমরা থানায় যোগাযোগ করি। পুলিশ তদন্তে নেমে ওই যুবকের বাড়িতে যায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের ভয়েই সম্ভবত যুবকের আত্মীয় ও বন্ধুরা আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে দেহ নিয়ে পালিয়েছিলেন।
নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতালে মৃত্যুর পর চিকিৎসকরা ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করেন এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ঘটনায় নিয়ম না মানায় হাসপাতাল আধিকারিক ও পুলিশকে দীর্ঘক্ষণ চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। হাসপাতালের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেদ করে কীভাবে দেহটি বাইরে নিয়ে যাওয়া হল, তা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়।