


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোয় এপারের বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে ওপারের পদ্মা-মেঘনার ইলিশ! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পুজোর মুখে এপারে ইলিশ রপ্তানিতে ছাড়পত্র দিল মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সোমবারই বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে দুর্গাপুজো উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এদিন বিকেলেই নয়াদিল্লিতে কর্মরত বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ এক্স-হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এপারে ইলিশ আসার ‘সুখবর’ শুনিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘উৎসব মরশুমে ভারতে ইলিশ পাঠাচ্ছে সরকার। স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতীক এটা।’
বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ কর্তা অতুল দাসের কথায়, তবে এবার যে পরিমাণ ইলিশ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ, তা গতবারের তুলনায় কম, দামেও বেশি। এবার মাত্র ১২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে ঢাকা। চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পদ্মা-মেঘনার রুপোলি ফসল সীমান্ত পার করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রক যে পরিমাণ ইলিশ ভারতে রপ্তানির জন্য অনুমতি দেয়, বাস্তবে তা থেকে অনেকটাই কম আসে। বাংলাদেশের মৎস্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের মরশুমে গত বছরের তুলনায় ৩৮ থেকে ৪৮ শতাংশ ইলিশ কম উঠেছে। ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, গত বছর কাগজে-কলমে তিন হাজার মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানোর কথা থাকলেও, বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দিয়েছিল ২৪০০ টনের। কিন্তু সাকুল্যে এসেছিল মাত্র ৫৭৭ টন। হতাশ হতে হয়েছিল ইলিশপ্রেমী বাঙালিকে।
বাংলাদেশ বাণিজ্যমন্ত্রক এবার কেজি প্রতি ইলিশের রপ্তানিমূল্য ধার্য করেছে ১২.৫ মার্কিন ডলার। গতবারের তুলনায় যা আড়াই ডলার বেশি। এদিন এক ডলারের দাম ভারতীয় মুদ্রায় ছিল ৮৮ টাকা। আমদানিকারকরা বলছেন, ইলিশ আনার সময় ব্যাংকের কমিশন বাবদ তা ৯০ টাকায় দাঁড়ায়। সেই নিরিখে প্রতি কেজি ইলিশ আসবে ১২৫০ টাকায়। এপারে এসে কেজি প্রতি তা কত দামে বিক্রি হয়, এখন সেটাই দেখার। ফাইল চিত্র