


ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমর্থনে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সভায় হামলা চালিয়েছিল ‘জুলাই-বিপ্লবী’রা। অথচ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে মুক্তিযোদ্ধাদেরই সন্ত্রাসবাদ তকমা দিয়ে গ্রেপ্তার করল মহম্মদ ইউনুসের পুলিস। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সাংবাদিক, প্রাক্তন আমলা সহ মোট ১৬ জন। তাঁদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। ‘পরিবর্তনের’ বাংলাদেশে মত প্রকাশের অধিকার যে ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে, তা এই ঘটনায় ফের একবার স্পষ্ট হয়ে গেল মনে করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
চলতি আগস্ট মাসেই ‘মঞ্চ ৭১’ নামে মুক্তিযোদ্ধাদের ওই সংগঠনটি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সংবিধান রক্ষা বিষয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সব মতাদর্শে বিশ্বাসী মুক্তিযোদ্ধাদেরই যোগ দেওয়ার আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু সভা শুরু হতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সেখানে হামলা চালায়। তাদের সঙ্গে বিএনপি ও জামাতের সদস্যরাও ছিল বলে অভিযোগ। মুক্তিযোদ্ধাদের গালিগালাজ করার পাশাপাশি তাঁদের চরম শারীরিক হেনস্তা করা হয়। ওই মুক্তিযোদ্ধারা ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলেও তকমা দেওয়া হয়। বেশ কিছুক্ষণ এমন চলার পর পুলিস আসে। উত্তেজিত ‘জনতা’র হাত থেকে বাঁচাতে সভায় ১৬ জনকে ‘উদ্ধার’ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ডিটেকটিভ বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। ধৃতদের মধ্যে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মাঞ্জুরুল আলম পান্না সহ আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। সিদ্দিকি আগে আওয়ামি লিগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০১৪ সালে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। বাকিদের কেউই কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন।