


ঢাকা: ইউনুস সরকারের সঙ্গে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট! শুক্রবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তার আগেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল সংসদ সংলগ্ন ঢাকার রাস্তা। জুলাই সনদে বেশ কিছু বদলের দাবিতে এদিন গেট টপকে জাতীয় সংসদ ভবনের অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়েছিলেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত আন্দোলনকারীরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মূলত শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে মৃতদের পরিজন ও আহতরা। অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। ‘জুলাই যোদ্ধা’রাও ওই অনুষ্ঠানে থাকতে চাইলে অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা করেও লাভ না হওয়ায় ‘জুলাই যোদ্ধা’দের ধাওয়া করে নিরাপত্তা বাহিনী। এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করে তাঁদের সংসদ চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মার খাওয়ার পর বাইরে বেরিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ‘জুলাই যোদ্ধা’রা। ক্ষোভ আছড়ে পড়ে পুলিশের উপর। পুলিশের অন্তত দু’টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি অস্থায়ী তাঁবু, পুলিশের কন্ট্রোল রুমও আগুন থেকে বাদ পড়েনি। বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। ফের একপ্রস্থ লাঠিচার্জ করে পুলিশ। একের পর এক কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডও ফাটানো হয়। ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিন বিকেলে জুলাই সনদে সই করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এবং বিএনপি ও জামাত সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। পূর্ব ঘোষণা মতোই জুলাই সনদে সই করেনি ‘বৈষম্যবিরোধী’ ছাত্রদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। এদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘জাতীয় ঐকমত্যের’ নামে কিছু রাজনৈতিক দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে একটি কাগজে স্বাক্ষর করছে।
তবে, সে সব ছাপিয়ে এদিন চর্চা শুরু হয়েছে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের উপর লাঠিচার্জ নিয়ে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ইউনুস সরকার এবার ‘জুলাই যোদ্ধা’দেরও অস্বীকার করতে শুরু করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়ে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামাত প্রধান শফিকুর রহমান। এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি।