


ঢাকা: দেশে-বিদেশে প্রবল সমালোচনার মুখে ময়মনসিংহে নিহত যুবক দীপুচন্দ্র দাসের পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে বলে ঘোষণা করল বাংলাদেশ সরকার। গত ১৮ ডিসেম্বর ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপুকে গণপিটুনি দেওয়ার পর গাছে ঝুলিয়ে, পুড়িয়ে মারা হয়। তারপরই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার দীপুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইউনুসও অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে দীপুর পরিবারকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। আবরার বলেন, ‘বাংলাদশ সরকার দীপুর সন্তান, স্ত্রী ও মা-বাবার সমস্ত দায়িত্ব নিচ্ছে। দীপুকে খুনের ঘটনাকে ‘পাশবিক’ বলে উল্লেখ করে আবরার বলেন, ‘এই নৃশংস অপরাধের কোনও অজুহাত নেই।’ দীপুর বাবা রবিচন্দ্র দাস নিজের পরিবারের দুর্দশার কথা শিক্ষা উপদেষ্টাকে জানান। ছেলের হত্যার বিচারও চান তিনি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কোনও রটনা, অভিযোগ বা আলাদা বিশ্বাস হিংসার অজুহাত হতে পারে না। কোনো ব্যক্তিরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অধিকার নেই।’ একইসঙ্গে ইউনুসের দপ্তরও জানিয়েছে, দীপুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আগামী দিনেও সরকার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে।
এদিকে, আজ, বৃহস্পতিবার ১৭ বছর পর বাংলাদেশে ফিরছেন খালেদা জিয়ার ছেলে তথা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে তাঁর দল। ঢাকা বিমানবন্দরে নামার পর গণসংবর্ধনা সমাবেশে যাবেন তারেক। সেখানে বক্তৃতা দেবেন তিনি। সমাবেশ শেষে তারেক হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারেক দেশে ফিরে কী বলবেন তার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে নজরে রাখছে ভারতও। বিদেশমন্ত্রক সূত্রের খবর, বাংলাদেশে মূলস্রোতের রাজনীতি ফিরে আসুক এবং স্বীকৃতি পাক, এটাই চাইছে নয়াদিল্লি। তাই ভারতের কাছেও তারেকের প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।