


সংবাদদাতা, বনগাঁ: ঘড়ির কাঁটায় ঠিক দুপুর ১২টা। সূর্য মধ্যগগনে। কাঠফাটা রোদে মাথায় টোকা পরে পাটের খেতে কাজ করছিলেন কয়েকজন দিনমজুর। রাস্তা দিয়ে মাইকে বলে গেল, ‘আপনাদের এলাকায় এসেছেন জনপ্রিয় তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস। আপনারা সকলে দু-হাত ভরে তাঁকে আশীর্বাদ করবেন।’
প্রচার শুনেই খেতের মাঝে দাঁড়িয়ে গেলেন কয়েকজন। প্রার্থী কাছাকাছি আসতেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন তাঁরা। হুড খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস তাঁদের দিকে হাত নাড়েন। অদূরে মোড়ের মাথায় দাঁড়িয়েছিলেন কয়েকজন মহিলা। প্রার্থীকে দেখামাত্রই উচ্ছ্বসিত হলেন তাঁরা। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে ভরে গেল চতুর্দিক। গাড়ি থেকে মহিলাদের দিকে ফুল ছুড়ে দেন তৃণমূল প্রার্থী। আঁচল পেতে সেই ফুল গ্রহণ করলেন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলারা।
কেউ কেউ বলেন, ‘দাদা, আমরা আছি আপনার সঙ্গে।’ স্বস্তির হাসি চওড়া হল প্রার্থীর মুখে। এভাবেই চড়া রোদ ও গরমকে উপেক্ষা করে সোমবার ভোট প্রচার সারলেন বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস।
এদিন বনগাঁ ব্লকের আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার করেন তিনি। হুড খোলা গাড়িতে প্রার্থী, বাইকে কয়েকশো কর্মী-সমর্থক এলাকায় মিছিল করেন। মনোহরপুর, আকাইপুর, গরিবপুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে জনসংযোগ করেন প্রার্থী। সাধারণ মানুষের আবদারে রাস্তায় একাধিক জায়গায় থামতে হয় তাঁকে। কেউ কেউ ফুলের মালাও পরিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিকে। এমনকি ঘর থেকে ছুটে মিষ্টি এনে কেউ কেউ নিজের হাতে খাইয়েও দেন প্রার্থীকে। এদিন আকাইপুর পঞ্চায়েতের শিয়ালডাঙা এলাকায় রাস্তার পাশে কয়েকজন মহিলা দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের আবদারে গাড়ি থেকে হাসিমুখে নেমে আসেন প্রার্থী। প্রার্থীকে মিষ্টি খাইয়ে দেন একজন মহিলা সমর্থক। কর্মী-সমর্থকদের ভালোবাসায় আপ্লুত তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘এদের এত ভালোবাসাই বলে দিচ্ছে, বিজেপির বিদায় শুধুই সময়ের অপেক্ষা।’