


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও মেদিনীপুর: তাঁর জন্য আপ্রাণ লড়াই চালিয়েছিলেন পিজির ডাক্তাররা। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট থেকে অনেকটাই সুস্থ করে শুধু ডায়ালিসিসের জন্য তাঁকে পাঠানো শুরু হয় ওয়ার্ডে। এমনই চলছিল একমাস ধরে, কিন্তু শেষরক্ষা হল না। চারমাসের যুদ্ধ শেষে রবিবার রাতে মারা গেলেন স্যালাইন কাণ্ডে গুরুতর অসুস্থ নাসরিন খাতুন।
তিনি ছিলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি। সিসিইউ থেকে ডায়ালিসিসের জন্য ৩০ এপ্রিল নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে পাঠানো হয় তাঁকে। ৯ মে ফের ফিরেছিলেন সিসিইউতে। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, চারমাসে তাঁর অন্যান্য মারণ সমস্যাগুলি নিয়ন্ত্রণে এলেও কিডনি ফেলিওর রোখা যায়নি। সঙ্গে ছিল জটিল সংক্রমণের সমস্যাও। নাসরিনের মৃত্যুতে স্যালাইন কাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২।
নাসরিনের জামাইবাবু শেখ ইনসান আলি বলেন, শনিবার নাসরিনের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকে ফের খিঁচুনি এবং বমি শুরু হয় তাঁর। তাঁর স্বামী সেলিম খান বলেন, সদ্যোজাত কন্যাকে নিয়ে খুবই সমস্যায় পড়ে গেলাম।
এদিকে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ময়নাতদন্তের পর নাসরিনের দেহ তাঁর বাড়িতে যাবে। সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, মৃতার মেয়ের দিকে খেয়াল রাখা হবে। সম্প্রতি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় হয় রাজ্য-রাজনীতি। রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন সেখানে ভর্তি ৫ প্রসূতি। মামনি রুইদাস নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। তিনজনকে আনা হয় পিজিতে। প্রথম দু’জন সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যেই বাড়ি ফিরেছেন।