


মুম্বই: দুই শরিকের লড়াই। মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের অন্দরে ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। একনাথ সিন্ধের শিবসেনা ও অজিত পাওয়ারের এনসিপির টানাপোড়েন ছায়া ফেলছে সরকারি কর্মসূচিতেও। একে অপরের দল বা দপ্তরের আয়োজিত অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলছে শিবসেনা ও এনসিপি। কার্যত মুখ দেখাদেখি নেই দুই উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার ও একনাথ সিন্ধের। কয়েকদিন দিন আগেই শিবসেনা মন্ত্রী শম্ভুরাজে দেশাইয়ের পর্যটন দপ্তরের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এসেছিলেন। কিন্তু দেখা মেলেনি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী এনসিপির ইন্দ্রনীল নায়েকেরই। এই ঠান্ডাযুদ্ধের রেশ পৌঁছয় এনসিপির ‘গৌরবশালী মহারাষ্ট্র’ অনুষ্ঠানেও। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের সংবর্ধনা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বিরোধী শিবিরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শারদ পাওয়ার ও উদ্ধব থ্যাকার আসেননি। তা অনেকটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সিন্ধের গরহাজিরা। এর আগের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সিন্ধে। কিন্তু গত বছরের বিধানসভা ভোটের পর কুর্সি হারাতে হয়েছে তাঁকে। এখন তিনি ফড়নবিশের ডেপুটি। এনসিপির অনুষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই দলের তিক্ত সম্পর্কেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই দ্বন্দ্বের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে অজিতের বিরুদ্ধে শিবসেনা মন্ত্রী সঞ্জয় শিরাসতের তোপ। তাঁর দপ্তরের জন্য বরাদ্দ ৪১৩ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিরাসত। শরিকি লড়াইয়ের জল অমিত শাহ পর্যন্ত গড়িয়েছে বলে খবর। গত মাসে রাজ্যে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই সময় সিন্ধে অজিতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন বলে সূত্রের খবর। যদিও এধরনের জল্পনা খারিজ করে দিয়েছেন অজিত।
এরইমধ্যে হাল্কা কথার ছলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বাসনার কথা জানিয়েছেন অজিত। আর তা নিয়েও শাসক জোটের অন্দরে শোরগোল পড়েছে। আর শাসক শিবিরের এই দ্বন্দ্ব তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছে বিরোধীরা। শিবসেনা (উদ্ধব)-এর মুখমাত্র সামনার খোঁচা দিয়ে লেখা হয়েছে, মহাযুতির অন্দরেই ছায়াযুদ্ধ চলছে। এরফলে সরকারের কাজকর্মই লাটে ওঠার উপক্রম হয়েছে বলে দাবি উদ্ধবের দলের।