


নয়াদিল্লি: ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে জলের মতো টাকা খরচ করেছে আমেরিকা ও ইরান। আবার তেহরানের পালটা হামলায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিও। তাই দ্রুত পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে আমেরিকার উপর চাপ দিতে শুরু করেছে ওই দেশগুলিও। ইতিমধ্যেই আমিরশাহির সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। যদি যুদ্ধ চলে, তাহলে আমেরিকার থেকে আর্থিক সহায়তা দাবি করেছে আমিরশাহি। যদিও ট্রাম্প চাইছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি থেকেই যুদ্ধের খরচ তুলতে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে কত টাকা খরচ হয়েছে? জানা যাচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমেরিকা প্রতিদিন ৮৯ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলার খরচ করেছে। ইজরায়েলের সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৬২০ ডলার প্রথম ২০ দিনেই খরচ করেছে তারা। আর ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ভবন ও পরিকাঠামো মেরামত করতে সৌদি আরবের খরচ ৬ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে চলেছে। এর মধ্যে ৫ হাজার কোটি ডলার শুধু প্রয়োজন হবে তেল ও গ্যাস কেন্দ্রগুলি মেরামতের জন্য। তবে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। দুবাই, আবু ধাবির মতো শহরগুলি সারা দেশের মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। যুদ্ধে ওই সব শহরগুলিকে টার্গেট করেছিল তেহরান। একাধিক অসামরিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছড়ে পড়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে আমিরশাহির সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান খালেদ মহম্মদ বালামা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আমেরিকার ফেডেরাল রিজার্ভের কাছে ‘কারেন্সি সোয়াপ’-এর প্রস্তাব দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আমেরিকা যদি ডলারে ঋণ দেয়, তাহলে আমিরশাহি তাদের নিজস্ব মুদ্রা দিরহাম বা অন্য কোনো মুদ্রায় সেই ঋণ শোধ করতে পারবে। ইতিমধ্যেই দেশটি চীনা মুদ্রায় লেনদেনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে ট্রাম্পের উপর চাপ আরও বেড়েছে। যদিও এই নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলি থেকেই যুদ্ধের খরচ তোলার ব্যাপারে যথেষ্ট উত্সাহী আমেরিকা। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও কুয়েত, সৌদি আরবের থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হয়েছিল। তবে, এবার আমিরশাহি যদি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে আমেরিকাকেই অর্থ দিতে হবে। এদিকে, ইরানও দাবি করেছে, আমেরিকার সব সহযোগী দেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তেহরান জানিয়েছে, সারা দেশে পরিকাঠামো নতুন করে গড়ে তুলতে ২৭ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।