


ইন্তার মিলান- ৪ : বার্সেলোনা- ৩
(দু’লেগ মিলিয়ে ৭-৬ ব্যবধানে জয়ী ইন্তার)
মিলান: ‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ফর্ম অব ডিফেন্স’। ফুটবল মাঠে হামেশাই এই কথা শুনতে পাওয়া যায়। তবে শুধুই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে যে সবসময় ম্যাচ জেতা যায় না, তা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন হান্স ফ্লিক। মঙ্গলবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে ইন্তার মিলানের বিরুদ্ধে ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে ইউরোপ সেরার লড়াই থেকে বিদায় নিল বার্সেলোনা। দু’লেগ মিলিয়ে ৭-৬ গোলে জিতে ফাইনালে পৌঁছল সিমোনে ইনজাঘির ছেলেরা। গতিশীল প্রতি-আক্রমণেই বাজিমাত ইন্তারের। ইতালির ক্লাবটির হয়ে জাল কাঁপান যথাক্রমে লাওতারো মার্তিনেজ, হাকান কালহানোগ্লু, ফ্রান্সেস্কো আকেরবি ও ডেভিডে ফ্রাতেসি। বার্সার তিন গোলদাতা এরিক গার্সিয়া, ডানি ওলমো ও রাফিনহা। সাত গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে অবশ্য ম্যাচের নায়ক ইন্তার গোলরক্ষক ইয়ান সোমার। অন্তত তিনবার দলের নিশ্চিত পতন আটকান এই সুইস দুর্গপ্রহরী।
প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের ডেরায় দু’গোলে লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে পারেননি ইন্তার ফুটবলাররা। মঙ্গলবার তাই শুরু থেকেই অনেক বেশি সাবধানী দেখায় তাদের। বরং অ্যাওয়ে ম্যাচে বার্সার খেলায় ঝাঁঝ ছিল অনেক বেশি। তবে সান সিরোয় আরও একবার রক্ষণের দুর্বলতায় ডুবল কাতালন ক্লাবটি। ২১ মিনিটে ঘরের মাঠে ইন্তারকে এগিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। ফেডেরিকো ডিমারকোর ডিফেন্সচেরা পাস খুঁজে নেয় ডামফ্রিসকে। ডানদিক থেকে তাঁর সাজিয়ে দেওয়া পাস থেকে ফাঁকা গোলে বল ঠেলেন লাওতারো (১-০)। এরপর প্রথমার্ধের শেষলগ্নে পেনাল্টি পায় ইন্তার। প্রথমে চোখ এড়িয়ে গেলেও, ভারের সাহায্য নিয়ে স্পটকিকের নির্দেশ দেন রেফারি। জাল কাঁপাতে ভুল করেননি কালহানোগ্লু (২-০)।
প্রথম লেগের মতো ফিরতি পর্বেও দু’গোলে পিছিয়ে পড়ে লড়াইয়ে ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি বার্সা। বিরতির পরই ব্যবধান কমান এরিক গার্সিয়া (২-১)। বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে জাল কাঁপান তিনি। আর তার ৬ মিনিটের মধ্যেই দলকে সমতায় ফেরান ড্যানি ওলমো। জেরার্ড মার্টিনের সেন্টার থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ এই তরুণ মিডিওর (২-২)। ৮৭ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনহা। বক্সের বাঁদিক থেকে তাঁর শট প্রথম প্রচেষ্টায় রুখে দেন ইন্তার গোলরক্ষক। ফিরতি বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা (৩-২)।
সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে দু’বার বল পোস্টে লাগে বার্সেলোনার। মঙ্গলবারও সেই পোস্ট ভাগ্যেই হার মানল কাতালন ক্লাবটি। সংযোজিত সময়ে ইয়ামালের শট পোস্টে লাগে। নাহলে ৯০ মিনিটেই ম্যাচ পকেটে পুরতে পারত বার্সা। তবে ভাগ্য সঙ্গ দিতেই পরের মিনিটেই সমতায় ফেরে ইন্তার। মাঝমাঠ থেকে বারেল্লার থ্রু বল বিপন্মুক্ত করতে ব্যর্থ হন জেরার্ড মার্তিনো। তা নিয়ন্ত্রণে নিয়েই আকেরবিকে গোলের জন্য বল সাজিয়ে দেন ডামফ্রিস। বল জালে জড়াতে ভুল করেননি এই ইতালিয়ান ডিফেন্ডার (৩-৩)।
অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচে দাপট বজায় রাখে বার্সা। তবে আরও একবার রক্ষণের ব্যর্থতায় পরাস্ত হতে হয় সেজনিকে। ধুঁকতে থাকা আরাহু-কুবার্সিদের বোকা বানিয়ে জাল কাঁপান ডেভিডে ফ্রাতেসি (৪-৩)। এরপর আর ম্যাচে ফেরা হয়নি বার্সার। ম্যাচ শেষে অবশ্য রেফারির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন বার্সা কোচ। তাঁর কথায়, ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিল। বিশেষত ৫০-৫০ সিচুয়েশনে সবকিছুই ইন্তারের পক্ষে গিয়েছে।’