


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি সকলের মনে এখনও টাটকা। এরই মধ্যে আবার আশঙ্কাজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল একটি বিমানের যাত্রীরা। তাঁদের মধ্যে কলকাতা নিবাসীও রয়েছেন। থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনালের ‘টিজি ৬১৫’ বিমানটি বেজিং থেকে ব্যাংকক যাচ্ছিল মঙ্গলবার বিকেলে। ব্যাংককে কলকাতাগামী সংযোগকারী বিমান রয়েছে। সেটির ছাড়বার কথা বিকেল পাঁচটা পাঁচ মিনিটে। বেজিংয়ে নির্ধারিত সময়েই ছাড়ে বিমান। কিন্তু বেজিং বিমানবন্দরে রানওয়েতে ওঠার আগের মুহূর্তে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায়। বিকট শব্দ শুনতে পান পাইলট। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হয়। কিন্তু সমস্যা এতটাই গভীর ছিল যে, ইঞ্জিনিয়ারদের ডেকে পাঠাতে হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার পর কাজে নামেন ইঞ্জিনিয়াররা। কিন্তু বিমানের ত্রুটি মেরামত করতে পারেননি। প্রায় তিন ঘণ্টা কেটে যায়। যাত্রীদের বসিয়ে রাখা হয় বিমানের মধ্যেই। শেষমেশ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বিমানটির যাত্রা বাতিল ঘোষণা করেন পাইলট।
রওনা দেওয়ার আগে বিমানটি কেন ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যাত্রীরা। ওই বিমানে ছিলেন অধ্যাপক ডঃ সাধনকুমার ঘোষ। তিনি বলেন, ‘বিমানে বড়সড় যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। কিন্তু এত সমস্যা নিয়ে বিমানটি রওনা হচ্ছিল কি করে? আকাশপথে কিংবা বিমান অবতরণের সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতেই পারত। এ ক্ষেত্রে বিমান সংস্থার সচেতনার অভাব দেখা গিয়েছে।’ এর পাশাপাশি জানা গিয়েছে, ওই বিমানের যাত্রীদের ভিসা সংক্রান্ত বিষয়েও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। কারণ যখন বিমানটির যাত্রা বাতিল করা হয় তখন যাত্রীদের হোটেলে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা। কিন্তু যাত্রীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাঁদের পক্ষে বাইরে বের হওয়া কোনওভাবেই সম্ভব ছিল না। শেষপর্যন্ত বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে যাত্রীদের ভিসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে বিমানটি বেজিং থেকে বুধবার দুপুরে ব্যাংককের দিকে রওনা দেয়। এই ত্রুটির কারণে একটি দিন নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।