


সুকান্ত বেরা, কলকাতা: ইডেনের পিচ হোক কিংবা ক্যামেরন গ্রিন ইস্যু, অনেক চেষ্টা করেও কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ অভিষেক নায়ারের মুখ থেকে এমন কিছু শব্দ বের করা গেল না, যা হেডলাইন হতে পারে। ক্রিকেট মাঠে হামেশাই শোনা যায়, সব বলে চালিয়ে খেলা উচিত নয়। বিষাক্ত বল ছেড়ে দেওয়াই বুদ্ধিমান ব্যাটারের পরিচয়। অভিষেক নায়ার বুধবার বিলম্বিত সাংবাদিক সম্মেলনে সেভাবেই উইকেট বাঁচানোর চেষ্টা করলেন। এমন কোনও বিরূপ মন্তব্য করলেন না, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
আসলে ঘর পোড়া গরুর যেমন সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়, কেকেআরের কোচের অবস্থা সেরকমই। তিনি গতবার চোখের সামনে দেখেছেন সাফল্যের শিখর থেকে বাস্তবের মাটিতে কেকেআরের আছড়ে পড়ার দৃশ্য। গত মরশুমে ইডেনের পিচ নিয়ে কিউরেটর বনাম ক্যাপ্টেনের দ্বৈরথ নড়িয়ে দিয়েছিল দলের ফোকাস। ঘরের মাঠে সাতটার মধ্যে চারটেতেই হেরেছিল শাহরুখ খানের দল। তার জেরেই চাকরি যায় কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের। তাঁর জুতোয় পা গলিয়েছেন নায়ার। দু’জনের কোচিং স্টাইল একেবারেই ভিন্ন। নায়ার অনেকটাই এগিয়ে। পণ্ডিতের ভুলের পুনরাবৃত্তি চান না তিনি। বৃহস্পতিবার ইডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে নামার আগে কেকেআর কোচ সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘পিচ যেমনই হোক, আমাদের সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরতে হবে। আমরা ইডেনে গত ককেদিন ধরে প্র্যাকটিস করছি। হাজার হাজার সমর্থক গ্যালারি থেকে গলা ফাটাবেন। এর চেয়ে বড় হোম অ্যাডভান্টেজ আর কী হতে পারে। পিচ নিয়ে বেশি ভাবছি না। ছেলেদের বলেছি, স্বাভাবিক খেলা খেলতে।’
ক’দিন আগে টি-২০ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা সেমি-ফাইনাল যে পিচে হয়েছিল, সেখানেই খেলবেন রাহানে-ঈশানরা। উইকেটের উপর হালকা ঘাস রয়েছে। ম্যাচের আগে ছেঁটে ফেলা হবে কিনা বলা কঠিন। তবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কোচ ড্যানিয়েল ভেত্তোরির মুখের হাসি বলে দিচ্ছিল, অ্যাওয়ে ম্যাচে এমন উইকেট পেয়ে তিনি খুশি। কারণ, তিনি জানেন প্রথম কয়েকটা বল কাটিয়ে দিতে পারলে পাওয়ার প্লে’তে অভিষেক শর্মা, ট্রাভিস হেডদের থামানো কঠিন হবে। তার সঙ্গে রয়েছেন দুরন্ত ফর্মে থাকা ঈশান কিষান। বিপক্ষের এই ব্যাটারকে দ্রুত ডাগ-আউটে ফেরানোই হবে কেকআরের বোলারদের বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রশ্ন হল, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবেন কে? নতুন বলে বৈভব অরোরাই বড় ভরসা। তবে মুম্বই ম্যাচে তিনি হতাশ করেছিলেন। সঙ্গে দেখা যেতে পারে মুজারাবানিকে। তবে কেকেআর চাইছিল, বল সামান্য টার্ন করুক। সেক্ষেত্রে পাওয়ার প্লে’তে বরুণ চক্রবর্তীকে ঠেলে দিয়ে হায়দরাবাদের টপ অর্ডারকে নড়িয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু ইডেনের কিউরেটরের থেকে এমন আবদারে সাড়া মিলেছে বলে মনে হচ্ছে না। উল্লেখ্য, প্রথম ম্যাচে হেরেছে দুই দলই।
বুধবার বিকেলে ইডেনের সামনে যখন দুটো দলের বাস এসে দাঁড়াল, তখন কোনও শব্দব্রহ্ম তৈরি হল না। ভোটমুখী বাংলা কি ক্রিকেট থেকে মুখ ফিরিয়েছে? কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য বললেন, টিকিট তো ভালোই বিক্রি হচ্ছে। তবে এই ম্যাচে যাঁরা মাঠে আসবেন, তাঁদের রানোৎসব দেখার প্রবল সম্ভাবনা। হায়দরাবাদের যদি অভিষেক, হেড, ঈশান থাকে, তাহলে কেকেআরও কম যায় না। দুরন্ত ফর্মে রাহানে। এই পিচেই বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ফিন অ্যালেন। সব দেখে মনে হল তিনেই নামবেন ক্যামেরন গ্রিন। তারপর অঙ্গকৃশ, রিঙ্কু, রামনদীপ। কামিন্সহীন হায়দরাবাদের বোলিংও বড়ই ছন্নাছাড়া। ভরসা ব্যাটাররাই। সেই কারণেই ‘ব্যাটল অফ ব্যাটস’-এর জন্য ইডেনের মঞ্চ তৈরি।