


নিতাই সাহা, সিউড়ি: শুভ অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে সোনা কিনতে ভিড় জমাবেন বাসিন্দারা। ফি বছরই অক্ষয় তৃতীয়ার আগে স্বর্ণালঙ্কারের দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ে। যদিও এবছরের চিত্রটা একেবারেই উল্টো। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনা শুভ হলেও আমজনতা পকেটের কথা ভেবে চিন্তিত। সোনার দাম এক লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় অনেকেই রীতি মানতে গিয়ে চিন্তায় পড়ছেন। কেউ আবার ঊর্ধ্বমুখী দামের কথা ভেবে এবছর সোনা কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এবছর অক্ষয় তৃতীয়ার বাজার কেমন যাবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। যদিও ব্যবসায়ীদের কথায়, সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও চাহিদা বরাবরই রয়েছে। তবে এবছর অক্ষয় তৃতীয়ায় ছোট অলঙ্কারের দিকে মানুষের ঝোঁক বেশি।
সিউড়ি-সাঁইথিয়া রোডের ব্যবসায়ী ওয়াসিম রাজা বলেন, সোনা কিনলে অনেকে পরিবারের মঙ্গল হবে বলে মনে করেন। ফলে সোনা কেনার প্রবণতা কমেনি। তবে, এবছর অক্ষয় তৃতীয়ায় ছোট স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা একটু বেশি রয়েছে। সেইমতো ছোট ছোট অলঙ্কার মজুত করা হয়েছে। সাধ্যমতো ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন। যদিও অন্যান্য বছরের মতো এবছর অক্ষয় তৃতীয়ার বাজার কেমন যাবে তা দেখা যাক।
ঊর্ধ্বমুখী গরম। সূর্যের প্রখর রোদের সাধারণ মানুষ বাইরে বেরতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে পা রাখছেন না। তবে প্রতি বছরই এই সময় রোদ উপেক্ষা করেও সাধারণ মানুষ সোনার দোকানগুলিতে ভিড় জমান। এবছর ১০গ্রাম সোনার দাম এক লক্ষ টাকা ছুঁতে চলায় সেই চেনা ভিড় কিছুটা কম। স্বাভাবিকভাবেই অগ্নিমূল্য বাজারে অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ মূহূর্তে স্বর্ণালঙ্কার বা সোনা কেনার কথা অনেকে ভাবতে পারছেন না। অগ্নিমূল্য বাজারে দুর্মূল্য সোনা যেন মঙ্গল কামনাতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ছোট অলঙ্কার হিসেবে নাকের নথ, কানের দুলের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।
আজ অক্ষয় তৃতীয়ায় জেলার বিভিন্ন মন্দিরে ভিড় জমাবেন বাসিন্দারা। পরিবারের মঙ্গল কামনায় পুজো দেবেন। সিউড়ির বড় কালীবাড়ি, মৌমাছি কালী মন্দির, বক্রেশ্বর সতীপীঠ সহ সাঁইথিয়ার নন্দিকেশ্বরী মন্দিরের ভক্তরা ভিড় জমাবেন। মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি শুভ দিনে সোনা কেনাও রীতি। সিউড়ির বাসিন্দা চন্দন সাউ বলেন, অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনা খুবই শুভ। গত বছরই সোনার অলঙ্কার কেনা হয়েছিল। তবে, সোনার দাম বাড়তে থাকায় এবার সাধ্যের বাইরে। তাই বাধ্য হয়ে সীমিত বাজেটে সোনার কেনাকাটা করতে কম ওজনের গয়না কিনছি। আর এক বাসিন্দা সন্দীপন রায় বলেন, দাম বাড়ায় সোনা কেনার প্রবণতা কমছে। বাধ্য হয়েই মাঙ্গলিক দিনেও সোনা কেনার রীতি থেকেও সরে আসতে হচ্ছে। আপাতত সোনা কিনব না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দাম কমলে যৎসামান্য সোনা কিনে নিয়ম রক্ষা করা যেতে পারে।