


নিজস্ব প্রতিনিধি, মারগাও: ছবির মতো প্র্যাকটিস মাঠ। ঝকঝকে ট্রফি ক্যাবিনেট। সাজানো কর্পোরেট হাউস। সবই আছে আগের মতো। শুধু সেই ছবিটা যা নেই। কয়েক বছর আগেও ৫ ডিসেম্বর সকালে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের সময় চোখ মুছতেন ডেম্পো কর্তারা। মন ভারাক্রন্ত হত ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রের জন্য। কিন্তু এখন তাঁর সেই প্রতিকৃতি কোথায়? শুক্রবার, ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে খোদ ডেম্পো হাউসেই ব্রাত্য জুনিয়র। শ্রদ্ধাঞ্জলি দূর অস্ত, জুনিয়রের কোনও ছবিই চোখে পড়ল না। একসময় ডেম্পোই ছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের পরিবার। সময়ের দুর্বিপাকে রঙিন স্মৃতি আজ ঝাপসা। কেন এই নীরবতা? জুনিয়রকে কী ভুলে গেল ডেম্পো? মৃদু হাওয়ায় নারকেল, ঝাউয়ের পাতার মর্মরধ্বনিতে শুধুই দীর্ঘশ্বাস।
২০০৪ সালের ৫ ডিসেম্বর। বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপ ফাইনাল। মোহন বাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন মাঠেই লুটিয়ে পড়েন ডেম্পোর প্রাণভ্রমরা জুনিয়র। জীবনের শেষ টাচেও বল জড়িয়েছিলেন জালে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই সব শেষ। চিরনিদ্রায়ও মুখে ছিল এক চিলতে হাসি। জুনিয়রের অকাল প্রয়াণ ভারতীয় ফুটবলকে কাঁদিয়েছিল। প্রতিবছর ৫ ডিসেম্বর, পানজিমের ডেম্পো হাউসে জুনিয়রের ছবির সামনে সাজানো থাকত শ্রদ্ধার ডালি। মৃত্যুবার্ষিকীতে সেখানে পৌঁছে অবাক হতে হয়। জানা গেল, কোনও ছবিই নেই। নিরাপত্তারক্ষী আমতা আমতা করে জানালেন, ‘ওল্ড গোয়ায় গিয়ে দেখুন। ডেম্পোর রেসিডিন্সিয়াল অ্যাকাডেমিতে কিছু পেতে পারেন।’ অগত্যা চালাও পানসি ওল্ড গোয়া। অস্বীকারের উপায় নেই, গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্টে দারুণ কাজ করছে গোয়ার ক্লাবটি। যুব দলের চোখে অনেক স্বপ্ন। তবে তারা হয়তো জানেই না ক্লাবেরই এক আপনজনের ট্র্যাজিক পরিণতির কথা। পুরো অ্যাকাডেমি ঘুরেও মিলল না জুনিয়রের স্মৃতি। সময়ের স্রোত বুঝি স্মৃতিকেও এভাবেই ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়! তাই তো আজ ডেম্পো হাউসের অন্দরমহলে পা রাখলে অনুভূত হয় চরম শূ্ন্যতা। স্রেফ জুনিয়রের অনুপস্থিতিই নয়, ফুটবলের প্রতি নিবিড় আবেগ ম্লান হয়ে আসার আভাসও স্পষ্ট। আসলে ডেম্পোর ইতিহাসের সোনালি অধ্যায়ে যে এক যুগ আগে থেকেই ধুলো জমতে শুরু করেছে।