


ইস্ট বেঙ্গল- ১ : জামশেদপুর এফসি- ২
(এডমুন্ড) (এজে, চিকা)
শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: দুপুরের ভূমিকম্পে দুলল কলকাতা। জোরালো কম্পন নিয়ে জোর চর্চা। শুক্রবার বিকেলে আরও একবার কাঁপল ফুটবলের মক্কা। যুবভারতীতে তালাল, মেসি বৌলিদের ধাক্কায় কুপোকাত ব্রুজোঁর ইস্ট বেঙ্গল। দুটো ম্যাচ জিতেই ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিলেন স্প্যানিশ কোচ। কাগুজে সমালোচনায় ফোকাস হারিয়ে নিজের উপর চাপ বাড়াচ্ছেন অস্কার। ১-২ গোলে হারে কোনও অজুহাত খাটে না। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট পেয়ে আপাতত তৃতীয় স্থানে ইস্ট বেঙ্গল। পক্ষান্তরে সমসংখ্যক ম্যাচে ৯ পয়েন্ট তুলে শীর্ষে জামশেদপুর।
ম্যাচের আগে সাউল ক্রেসপোকে দেখা গেল ভিআইপি বক্সে। চোট সারেনি। খেলার প্রশ্নই নেই। মাঝমাঠে সাউলের জায়গায় ড্যানিশ ফুটবলার সোয়বার্গকে খেলালেন অস্কার। প্রথম শোয়ে সোয়বার্গ একেবারেই বেমানান। ইস্ট বেঙ্গল দানা বাঁধার আগে বেশ কয়েকবার ঝাপটা দিল আওয়েন কোয়েলের দল। যদিও প্রথম সুযোগটা পেয়েছিল ইস্ট বেঙ্গলই। মিগুয়েলের ফ্রি-কিক থেকে জয় গুপ্তার হেড বাইরে যায়। অন্যদিকে, সানানের মাইনাস থেকে মেসি বৌলি জাল কাঁপানোর পর লাল-হলুদ সমর্থকদের বুকের রক্ত চলকে উঠেছিল। তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর ভিন্সি ব্যারেটোর জোরালো শট রুখে দেন গিল। এই পর্বে সানানকে আটকাতে ডাহা ফেল লালচুংনুঙ্গা। মেসি বৌলিকে বেপরোয়া পা চালিয়ে হলুদ কার্ডও দেখলেন। তারপর আর ঝুঁকি নেননি অস্কার। লালের পরিবর্তে রাকিপকে নামিয়ে দেন তিনি। যাই হোক, মিগুয়েল, এডমুন্ডরা নড়াচড়া করতেই ঝলমলে ইস্ট বেঙ্গল। ৩৯ মিনিটে লিড নেয় অস্কার ব্রিগেড। এক্ষেত্রে বিপক্ষের পায়ের জঙ্গল ভেদ করে মিগুয়েলের থ্রু পাস খুঁজে নেয় বিপিনকে। তাঁর বাঁ পায়ের সেন্টার ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন প্রতীক চৌধুরী। সুবিধানজক জায়গায় বল পেয়ে ছোট্ট আউটসাইড ডজে মার্ক জোকে কাটিয়ে জোরালো গ্রাউন্ডারে জাল কাঁপান সেই এডমুন্ড (১-০)। বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর সোনার সুযোগ হারালেন ইউসেফ।
এক গোলের লিড নিরাপদ নয়। বিরতির পর জামশেদপুর চাপ বাড়াতেই নড়বড়ে ইস্ট বেঙ্গল। ৫৯ মিনিটে মেসি বৌলির মাইনাস থেকে তালালের পুশ গোলে ঢোকার মুখে সেভ করলেন গিল। কিন্তু পরমুহূর্তেই ১-১। কর্নার থেকে সোয়বার্গ, রাকিপকে প্রায় বগলদাবা করে লক্ষ্যভেদ এজের। দীর্ঘদেহী এজে ডেডবল মুভমেন্টের সময় গোল করতে উঠে আসেন। লাল-হলুদের ভিডিও অ্যানালিস্টরা কী তা জানতেন না! আওয়েন কোয়েল অভিজ্ঞ কোচ। মিগুয়েলের জন্য প্রণয় হালদারকে বরাদ্দ করতেই চাপে পড়ল ইস্ট বেঙ্গল। কিন্তু দুর্ভোগ তখনও বাকি। ইউসেফকে তুলে বিপক্ষের উপর থেকে চাপটা সরিয়ে নিলেন অস্কার। মারাত্মক ভুলের পর ‘রে রে’ করে আক্রমণে এলেন তালালরা। পরিকল্পিত মুভ থেকে দুরন্ত গোল রেইকি চিকাওয়ার (২-১)। রশিদরা তখন ধারেকাছে নেই। কেভিন সিবলের অভাব বোঝা গেল বারবার।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, লালচুংনুঙ্গা (রাকিপ), আনোয়ার, জিকসন, জয়, রশিদ, সোয়বার্গ (নন্দ), মিগুয়েল, এডমুন্ড (শৌভিক), বিপিন (বিষ্ণু) ও ইউসেফ (ডেভিড)।