


সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: ডুরান্ড কাপে নক-আউটে ডার্বি জয়ের পরের ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। ঐতিহাসিক এই টুর্নামেন্টে এমন উদাহরণ রয়েছে একাধিক। ১৯৫৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮— প্রতিবারই সেমি-ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগানকে হারানোর পরই খেতাবি লড়াইয়ে খালি হাতে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল মশাল বাহিনীকে। তাই অতীতের এই তিক্ত পরিসংখ্যান মাথায় রেখে বুধবার শেষ চারের লড়াইয়ে ডায়মান্ডহারবার এফসি’র বিরুদ্ধে অতি সতর্ক অস্কার ব্রুজোঁর ছেলেরা। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের পর ডুরান্ড কাপে সাফল্যের মুখ দেখেনি ইস্ট বেঙ্গল। ২০২৩ সালে দল ফাইনালে পৌঁছলেও, সেবার মোহন বাগানের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেডের। এবার তাই খেতাব ঘরে তোলার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর শৌভিক-সাউল ক্রেসপোরা। তাই ধারেভারে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা ডায়মন্ডহারবার এফসি’কেও যথেষ্ট সমীহ করছেন লাল-হলুদ কোচ। ডার্বি জয়ের যাবতীয় আত্মতুষ্টি ঝেড়ে ফেলে আরও এক কঠিন লড়াইয়ের জন্য ছেলেদের প্রস্তুত থাকার বার্তা স্প্যানিশ কোচের। সেই মতো মঙ্গলবার অনুশীলনের শুরুতে মাঠেই টিম মিটিং সারলেন অস্কার। আর প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তাঁর বিশ্লেষণ, ‘ডায়মন্ডহারবার যথেষ্ট ভালো দল। কোচ কিবু দীর্ঘদিন ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে জড়িত। ফলে ম্যাচটা মোটেই সহজ হবে না।’
কোয়ার্টার-ফাইনালের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ চারের লড়াইয়ে নামছে ইস্ট বেঙ্গল। তাই তেমন রিকভারির সুযোগ পায়নি দল। সেই কথা মাথায় রেখে মঙ্গলবার ৪০ মিনিটের মধ্যেই অনুশীলন শেষ করলেন অস্কার। শুরুতে হাল্কা স্ট্রেচিং, তারপর গ্রুপ করে সিচুয়েশন প্র্যাকটিস। আর সবার শেষে চলল পেনাল্টি শ্যুট-আউটের মহড়া। অস্কার অবশ্য ৯০ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করতে চাইবেন। এই প্রসঙ্গে লাল-হলুদ কোচের মন্তব্য, ‘আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। ডার্বির মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ খেলার দুই দিনের মধ্যেই সেমি-ফাইনাল খেলতে হচ্ছে। তাই ছেলেদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়াই আমার প্রথম লক্ষ্য। আর যে কোনও ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। সেই মতো কলকাতা লিগ, ডুরান্ডে ওদের খেলা দেখেছি। ডায়মন্ডহারবারের আপফ্রন্টে লুকা মাচেন দারুণ ফুটবল খেলছে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
বুধবার শুধু ম্যাচ জেতা নয়, ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয়ে নজর রাখতে হবে লাল-হলুদ কোচকে। তিন বিদেশি সহ দলের ছয় ফুটবলার একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। শেষ চারের লড়াইয়ে ফের কার্ড দেখলে ফাইনালে উঠলে তাঁকে পাবে না দল। অস্কার অবশ্য বিষয়টি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। বরং ডায়মন্ডহারবারের বিরুদ্ধে পূর্ণশক্তির দলই মাঠে নামাবেন। সেক্ষেত্রে আরও একবার ডার্বির ডিফেন্স লাইনই বুধবার দেখা যেতে পারে। মাঝমাঠেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। আপফ্রন্টে অবশ্য শুরু করবেন গত ম্যাচের নায়ক দিমিত্রিয়স দিয়ামানতাকোস। উল্লেখ্য, ডার্বিতে চোট চেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন হামিদ। মঙ্গলবার অনুশীলনে এলেও সাইড লাইনেই সময় কাটান তিনি।
যুবভারতীতে ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭টায়।
সরাসরি সম্প্রচার সোনি স্পোর্টসে।