


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফুটবল জট কাটাতে তিন সদস্যের কমিটি গড়েছিল ফেডারেশন। ২৯ ডিসেম্বর, তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। নতুন বছরে মাঠে বল কি গড়াবে? অনিশ্চয়তা কেটেও কাটছে না। সোমবার রাজধানীর ফুটবল হাউসে ফেডারেশন কর্তাদের উপস্থিতিতে ফের বৈঠকে বসছেন কমিটির তিন সদস্য। অনুমান, সেখানেই স্পষ্ট বার্তা মিলতে পারে। তবে কোনওক্রমে লিগ হলেও হোম-অ্যাওয়ে ফরম্যাটে বদল আসার সম্ভাবনা প্রবল। মূলত খরচ কমাতেই এমন ভাবনা। সেক্ষেত্রে দু’টি বা একটি ভেন্যু বেছে নিয়ে টুর্নামেন্ট হতে পারে।
আসল জট কোথায়? ক’দিন আগেই ক্লাব জোটের প্রতিনিধিদের দাবি মেনে তাদের হাতে লিগ আয়োজনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার খসড়াপত্র তুলে দেয় সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। ফুরফুরে মেজাজেই শেষ হয়েছিল বৈঠক। অনেকেই আশা করেছিলেন, এরপর সমস্যা মেটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। লং টার্ম প্রস্তাবে যখন আপত্তি নেই সেক্ষেত্রে চলতি মরশুমের রোডম্যাপও দ্রুত তৈরি হবে। কিন্তু সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। এদিন কমিটির সদস্যদের কাছে ফের কয়েক দফা প্রশ্ন তুলে ধরেন ক্লাব জোটের কর্তারা। এএফসি’র স্লট পেতে গেলে প্রতিটি ক্লাবের কমপক্ষে ২৪টি ম্যাচ খেলা জরুরি। কিন্তু সময় সংক্ষেপের কারণে তা অনিশ্চিত। পাশাপাশি অবনমনের প্রশ্নে ফেডারেশনের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ছোড়েন জোট কর্তারা। এখানেই শেষ নয়। জানা গিয়েছে, কমার্শিয়াল পার্টনার ও সম্প্রচারের খরচ নিয়েও স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন জোট কর্তারা। সূত্রের খবর, সম্প্রচারের খরচ কমবেশি ৪০ কোটি টাকা। অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়ে সেই টাকা কীভাবে জোগাড় হবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। পাশাপাশি, কমার্শিয়াল পার্টনারের প্রশ্নে এফএসডিএলের সঙ্গে বৈঠকে রাজি ক্লাব জোট। তারা চান, উদ্যোগ নিয়ে এফএসডিএলের সঙ্গে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থাও কথা বলুক। একমাত্র এই ফর্মূলাতেই সমাধান মিলতে পারে। এক্ষেত্রে ফেডারেশন কর্তাদের মুখে কুলুপ। তবে সূত্রের খবর, জোটের শর্তাবলী অহেতুক বায়নাক্কা বলেই মনে হয়েছে তাদের। সমস্যা থাকলে আগের বৈঠকে ক্লাব জোট নীরব ছিল কেন? সেই প্রশ্নও উঠছে। দ্রুত সমাধানের বদলে নানা অছিলায় কালক্ষেপের নেপথ্যে তৃতীয় পক্ষের অঙ্গুলিহেলন নিয়েও জোর জল্পনা ফেডারেশনের অন্দরে। সবমিলিয়ে বছর শেষেও দড়ি টানাটানি চলছেই।