


হোয়াটস ইওর নেম? বিকিকিনির ফাঁকেই দীর্ঘকায় শ্বেতাঙ্গকে প্রশ্ন দোকানদারের। জার্মানির টবি ততক্ষণে বেছে নিয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার ঘন নীল জার্সি। বেকেনবাওয়ার, মুলারের দেশ থেকে আমেদাবাদে এসেছেন টবি। এই প্রথম ক্রিকেট দর্শন। আমজনতার সঙ্গে ‘ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া’ স্লোগানেও দিব্যি গলা মেলালেন। সূর্যদের জার্মান ভক্তের সঙ্গে সেলফি তুললেন অনেকেই। মিউনিখ টু মোতেরা— ক্রিকেট আবেগে সব দূরত্ব ধুয়েমুছে সাফ।
সকাল ১০ টা। সুভাষ ব্রিজের সামনে যেন নীল সমুদ্রের ঢেউ। হাতে হাতে জাতীয় পতাকা। ২৫০-৪০০ টাকা দামের জার্সি, টুপি বিক্রি হল দেদার। বুমরাহ লেখা জার্সির বেশ চাহিদা। সমান তালে পাল্লা দিলেন সূর্য, সঞ্জু, অক্ষরও। বেলা বাড়তেই অবশ্য রাস্তা বন্ধ। মোতেরা স্টেডিয়ামের প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ব্যারিকেড, গার্ডওয়াল।
চড়া গরমে ফর্সা মুখ আরও লাল। দরদরিয়ে ঘামছেন। ঢকঢক করে বোতলের জল গলায় ঢাললেন উইল। বন্ধু রায়ানকে নিয়ে উড়ে এসেছেন আমেদাবাদ। দুই কিউই সমর্থককে দেখে অনেকেই সৌজন্য বিনিময় করলেন। স্পোর্টিং স্পিরিট দেখে কিউইদের মুখে চওড়া হাসি। উইল নিখাদ ক্রিকেটপ্রেমী। গ্লেন ফিলিপসের ফ্যান। ম্যাচ শুরুর প্রায় ৩ ঘণ্টা আগে গ্যালারিতে হাজির দুই বন্ধু।
মোতেরায় মহারণ। ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই। সেলিব্রেটি থেকে আমজনতার ভিড় সামলাতে প্রশাসনের ঘুম ছোটার জোগাড়। দুপুরের পর ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে স্টেডিয়মে কার্যত দুর্গ। ব্যারিকেড, স্নিফার ডগের তল্লাশি তো রইলই। মোতায়েন ৪৫০০ পুলিশকর্মী। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা ধরলে সংখ্যাটা আরও বেশি।