


দেরাদুন: কেউ বললেন, আমাদের এখানে কোনও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। কারও কথায়, এখানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। কোথাও আবার ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ফোন ও হাসি ঠাট্টায় মত্ত ডাক্তার-নার্সরা। চার জেলার পাঁচটি হাসপাতাল। প্রায় ১৮০ কিলোমিটার ঘুরপাক খেতে খেতেই কেটে গেল সময়। উত্তরাখণ্ডে চিকিৎসা ব্যবস্থার গাফিলতির বলি ১৪ মাসের খুদে। ১০ জুলাইয়ের এই ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য। ছেলে শিবাংশের মৃত্যুর পর চিকিৎসক ও রাজ্যের হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সেনা আধিকারিক দীনেশচন্দ্র যোশি। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিষেবার অভাব ও চিকিৎসায় চরম গাফিলতির জেরেই এই করুণ পরিণতি। এনিয়ে তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।
১০ জুলাই বমি শুরু হয় খুদে শিবাংশের। ডিহাইড্রেশন হওয়ায় তড়িঘড়ি তাকে চামোলির স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান তার মা। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর বলা হয়, এইমুহূর্তে কোনও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। এরপর তাকে ২২ কিলোমিটার দূরে বাগেশ্বরের বৈজনাথের এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেফার করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আরও ২০ কিলোমিটার দূরে বাগেশ্বর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অভিযোগ, সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফোনে ব্যস্ত ছিলেন। নার্সরা নিজেদের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা করছিলেন। তাঁদের চেকআপ করার কথা বলতেই অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন। ভালো করে না দেখেই শিশুটিকে আলমোরার হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। শিবাংশের মায়ের কথায়, ‘ওই হাসপাতালে আইসিইউ ছিল না। তড়িঘড়ি রেফার করে দেওয়া হয়। আড়াই ঘণ্টা পর আসে অ্যাম্বুলেন্স। স্বামী তখন কাশ্মীরে ডিউটিতে। চিকিৎসক, নার্সদের সেকথা জানালেও কোনও গুরুত্ব দেননি। শিবাংশকে আলমোরা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে ফের নৈনিতালের হলদওয়ানির হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১২ জুলাই ছেলেকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। ১৬ জুলাই মৃত্যু হয়।’ ছেলে হারিয়ে সেনা অফিসারের কাতর আবেদন, এটাই কি জরুরি পরিষেবা? আর কোনও বাবা-মাকে যেন এভাবে কষ্ট পেতে না হয়। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানান, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’