


শ্রীনগর, ২৮ ফেব্রুয়ারি: কাটল ৬৭ বছরের খরা। প্রথমবার রনজি ট্রফি জিতল জম্মু ও কাশ্মীর। ঐতিহাসিক এই সাফল্যের সাক্ষী থাকতে এদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও। ফাইনাল দেখতে গতকালই হুবাল্লি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। ফাইনালের দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন উপত্যকার ব্যাটাররা। গোটা মরশুমে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে পরশ ডোগরার দল। অতীতে কখনও রনজি ট্রফির সেমি-ফাইনালেও উঠতে না পারলেও চলতি মরশুমে জম্মু-কাশ্মীর পরপর তিনটি ম্যাচে মধ্যপ্রদেশ, বাংলা এবং শেষে কর্ণাটকের মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ইতিমধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী চ্যাম্পিয়ন টিমের জন্য ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আইসিসি প্রধান জয় শাহও।
ফাইনালের প্রথম ইনিংসে জম্মু ও কাশ্মীর ৫৮৪ রান তোলে। জবাবে কর্ণাটক মাত্র ২৯৩-রানেই আটকে যায়। রনজি ফাইনালে ২৯১ রানের লিডই পরেশদের জয়ের ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে দিয়েছিল। কর্ণাটককে ঘরের মাঠে ফলো অন না করিয়ে বিপুল লিডের সম্ভার নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাট করে জম্মু ও কাশ্মীর দল। ওপেনার কামরান ইকবাল দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। করেন ১৬০ রান। শাহিল লোতরা করেন ১০১ রান। দুই ব্যাটারই অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৪২ রান তোলে উপত্যকা ব্রিগেড। পঞ্চম দিনে চা পানের বিরতির আগেই ডিক্লেয়ারের ঘোষণা করে জম্মু ও কাশ্মীরের দল। ফাইনালের মঞ্চে এই রান তাড়া করা সম্ভবই ছিল না কর্ণাটকের পক্ষে। ফলে চেষ্টাও করেননি পাদিক্কালেরা। শেষে হার মেনে নেয় মায়াঙ্ক, রাহুলরা। ম্যাচ অমীমাংসীতভাবে শেষ হয়। তবে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ড্র হলেও প্রথম ইনিংসের বিশাল লিডের সুবাদে রনজি ট্রফি জিতে নেয় জম্মু ও কাশ্মীর। গড়ে ফেলে ইতিহাস। জয়ের নেপথ্যে দলগত প্রচেষ্টাই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে দাবি করেছেন উপত্যকার অধিনায়ক পরশ। ম্যাচের সেরা হন শুভম পুনির। টুর্নামেন্টের সেরা হন আকিব নবি।