


নয়াদিল্লি: আর একটা পরাজয় মানে প্লে-অফ থেকে কার্যত ছিটকে যাওয়া। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ফিরোজ শাহ কোটলায় দিল্লি ক্যাপিটালসের মুখোমুখি হচ্ছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ন’টি খেলে রাহানেদের ঝুলিতে ৭ পয়েন্ট। রয়েছে সপ্তম স্থানে। সমসংখ্যক ম্যাচে দিল্লির সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। অক্ষর প্যাটেলের নেতৃত্বে রাজধানীর ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মেলে ধরেছে। তাই কেকেআরের লড়াই নিঃসন্দেহে কঠিন। তবে দিল্লির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কোহলিদের সাফল্য অনুপ্রাণিত করছে নাইটদের। রবিবার টিম গেমেই অক্ষর বাহিনীকে বশ মানিয়ে পয়েন্ট টেবলে শীর্ষে উঠেছিল আরসিবি। রাহানেরাও একই কৌশলে দিল্লি-বধের স্বপ্ন দেখছেন।
কেকেআরের সবচেয়ে বড় সমস্যা ধারাবাহিকতার অভাব। ওপেনিং জুটি জমাট বাঁধছে না। তাই ডি’ককের জায়গায় ফেরানো হয়েছে গুরবাজকে। তিনিই শুরুতে নারিনের সঙ্গী হবেন। তিন নম্বরে রাহানে। চারে হয়তো ফিরতে পারেন রঘুবংশী। আসলে ২৩.৭৫ কোটির বেঙ্কটেশ আয়ার একেবারেই ছন্দে নেই। এছাড়া তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটার লাভনিথ সিসোদিয়াকে নিয়েও চর্চা চলছে।
গত তিনটি ম্যাচের মধ্যে নাইটরা দু’টিতে হেরেছে। ইডেনে পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় জুটেছে মহামূল্যবান এক পয়েন্ট। সেটাকে আঁকড়ে ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর সংকল্প নাইটদের। এক্ষেত্রে বল হাতে রাসেলের ফর্মে ফেরা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। তিনি যদি ব্যাটে কিছু রানও করতে পারেন, তাহলে রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি দিল্লির বোলারদের উপর চাপ তৈরি হবে।
সোমবার প্র্যাকটিসে নেমেই পিচ দেখতে ছোটেন রাহানেরা। আসলে কোটলার উইকেট মন্থর হয়েছে। সেক্ষেত্রে স্পিনাররা সুবিধা পেতে পারেন। তাই অতিরিক্ত স্পিনার খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে কেকেআর শিবিরে। বোলিংয়ে অ্যানরিখ নর্তজেও ফিরতে পারেন। কারণ, তিনি অতীতে খেলেছিলেন দিল্লিতে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এছাড়া বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিন আছেন, যাঁরা নিজের দিনে সব হিসেব উল্টে দিতে সক্ষম।
দিল্লির ব্যাটিং বড্ড বেশি লোকেশ রাহুল নির্ভর। ছন্দে থাকা অভিষেক পোড়েলকে দ্রুত ফেরাতে পারলে লোকেশ চাপে পড়বেন। করুণ নায়ার প্রত্যাশার মর্যাদা দিতে ব্যর্থ। গত ম্যাচে ডু’প্লেসিও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই ফ্রেজার ম্যাকগার্কের প্রত্যাবর্তন দেখা যেতে পারে ডু’প্লেসির জায়গায়। ক্যাপ্টেন অক্ষর প্যাটেল অবশ্য ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন। সেই সঙ্গে তাঁর তুখোড় নেতৃত্ব দলকে প্লে-অফের লড়াইয়ে রেখেছে দারুণভাবে।
দিল্লির মিডল অর্ডরে বড় ভরসা ট্রিস্টান স্টাবস। এছাড়া আশুতোষ শর্মাও ম্যাচ উইনার। তবে পর পর উইকেট পড়লে ব্যাটিং লাইন-আপ কেঁপে যেতে পারে। তাই পাওয়ার প্লে’তে উইকেট তুলে নেওয়ার উপর বাড়তি জোর দিতে হবে নাইট রাইডার্সকে।
দিল্লির বোলিংয়ে বড় মুখ মিচেল স্টার্ক। গতবার তিনি কেকেআরের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। কিন্তু তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। স্টার্ক জবাব দিতে তৈরি। তবে ছন্দে নেই অজি তারকা পেসার। গত ম্যাচে উইকেট পাননি। মুকেশ কুমারও চরম হতাশ করছেন। তাই স্পিনের ছোবলে কুলদীপ যাদব ও অক্ষর প্যাটেল জুটি যদি নাইট রাইডার্সের ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে না পারে, তাহলে রাজধানীতে বিজয় পতাকা ওড়াতে পারে নাইট ব্রিগেড।