


নয়াদিল্লি: আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার জন্য যেভাবে পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটল ভারতীয় পাইলটদের সংগঠন। শনিবার ফেডারশেন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস (এফআইপি) জানিয়েছে, ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য দুই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ ও ‘রয়টার্স’-কে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। এফআইপি জানিয়েছে, শুধুমাত্র প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এই দুই সংবাদমাধ্যম পাইলটদের দিকে আঙুল তুলছে। বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যা অত্যন্ত নিন্দানীয়। তাই নোটিস পঠিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্সের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে তারা। এফআইপির সভাপতি ক্যাপ্টেন সিএস রনধাওয়া বলেন, ‘এভাবে ভুল তথ্য ছড়ানোর তীব্র নিন্দা করি। ওরা নিজেরাই সব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। ওরা কি তদন্তকারী সংস্থা? সারা বিশ্বজুড়ে এই নিয়ে ভিত্তিহীন খবর প্রচার করা হচ্ছে। এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)-র প্রাথমিক রিপোর্টে যে সব তথ্যের উল্লেখ নেই, সেই সব নিয়ে খবর কীভাবে প্রকাশ করা যায়? কেন এমন তথ্য প্রচার করা হল, তা নিয়ে আমরা ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছি।’
এদিকে, আমেরিকার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)-ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর জন্য সংবাদমাধ্যমকে তিরস্কার করেছে। সংস্থাটির প্রধান জেনিফার হোমেনডি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, এআই-১৭১ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম যে সব খবর প্রকাশ করেছে, সেগুলির সবকটিই অপরিণত ও অনুমানভিত্তিক। এএআইবি শুধু তাদের তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এই ধরনের বিমান দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য সময় লাগবে। এখনই কোনও উপসংহার টানলে তা তদন্ত প্রক্রিয়াকেই ব্যাহত করবে। জেনিফার অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের নাম করেননি। এদিন এফআইপির সভাপতি জানিয়েছেন, তাঁদের নোটিসের উত্তর না দিলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবা হবে। সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এএআইবি। সেখানে দুই পাইলটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথন প্রকাশ করা হয়। তারপরই সংবাদমাধ্যমের একাংশ প্রচার করতে শুরু করে, পাইলটদের ভুলেই বিমানের ফুয়েল সুইচ বন্ধ হয়েছিল। এটাই দুর্ঘটনার কারণ। যদিও এএআইবি আগেই ওই দাবি খারিজ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনও প্রমাণিত হয়নি। এর জন্য এদিন এএআইবিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন রনধাওয়া।