


সংবাদদাতা, কাঁথি: সৈকতনগরীর তটে বলরাম দেব ও দেবী সুভদ্রাকে নিয়ে অক্ষয়তৃতীয়ার পুণ্যতিথিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন প্রভু জগন্নাথ। নব আলয়ে মহাপ্রভুকে দর্শনের জন্য দ্বারোদঘাটনের দিন ভক্তদের মধ্যে যে আগ্রহ আর উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল, তা অব্যাহত ছিল পয়লা মে ছুটির দিন তো বটেই, শুক্রবারেও। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্রীষ্ণাবকাশ শুরু। পর্যটকদের ঢল শুরু হয়েছে দীঘায়। আজ, শনিবার ও কাল রবিবার উইকএন্ড ডেস্টিনেশনকে ঘিরে যে বাড়তি উন্মাদনা শুরু হয়েছে, তাতে এখন চওড়া হাসি হোটেল মালিক, পরিবহণ কারবারি আর ছোট ব্যবসায়ীদের মুখে। অক্ষয়তৃতীয়ার দিন ধর্মীয় রীতি আচার মেনে জগন্নাথ দেব সহ বাকি দেব-দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর নতুন মন্দিরের দ্বারোদঘাটন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্দিরকে ঘিরে মানুষের উন্মাদনা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা নিজেই প্রত্যক্ষ করেছিলেন তিনি। মন্দিরে আগত পুণ্যার্থী ও জগন্নাথ ভক্তদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তা দেখার জন্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে এসেছেন তিনি। দীঘা পর্ব মিটিয়ে কলকাতায় ফিরে শত ব্যস্ততার মধ্যেও, জগন্নাথ দেবের নব আলয়ের পরিচালনা নিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সকাল থেকেই মন্দির দর্শনে হুড়োহুড়ি শুরু হয় পুণ্যার্থীদের মধ্যে। তবে বিকেলে রোদের তাপ কমতেই মন্দিরে ঢোকার প্রতীক্ষা লাইন দীর্ঘ ঘেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। সন্ধ্যার আলোকসজ্জায় মোহময় দেবালয় দর্শনে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিস, সিভিক ভলান্টিয়ার আর স্বেচ্ছাসেবকদের। প্রভু জগন্নাথের নব আলয় দর্শনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তো বটেই, লাগোয়া ওড়িশার বালেশ্বর জেলার ভোগরাই, চন্দনপুর, বিচিত্রপুর ও তালসারির মতো এলাকা থেকে নিয়মিত আসছেন মানুষ। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিচিত্রপুরের বাসিন্দা পরমেশ্বর পাণিগ্রাহী এসেছিলেন প্রভু দর্শনে। তাঁর কথায়, পুরী হাজার বছরের পুরনো ধাম। সেখানকার মাহাত্ম্যই আলাদা। তবে বাড়ির এতো কাছে প্রভুর আরেকটি মন্দির, দর্শন না করলে হবে! খুব সুন্দর মন্দির, সত্যিই প্রভুর কৃপা বর্ষিত হয়েছে দীঘার সমুদ্র পাড়ে। পর্যটকদের আনাগোনা আর হোটেল বুকিংয়ের বহর দেখে এমনটাই মনে করছেন হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিপ্রদাস চক্রবর্তী।