


সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: জলঙ্গি নদীর পাড় দখল ও অবৈধ নির্মাণ রুখতে প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন নবদ্বীপের নবনির্বাচিত বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী। দীর্ঘদিন ধরে মায়াপুরের হুলোরঘাট ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় নদীর পাড় দখল করে বেআইনি নির্মাণ, নদী ভরাট এবং দূষণের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, মৎস্যজীবী থেকে পরিবেশপ্রেমীরা।
অভিযোগ, মায়াপুর-বামুনপুকুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হুলোরঘাট সংলগ্ন জলঙ্গি নদীর দুই তীরেই চলছে এই পাড় দখল। ব্যবসায়ীদের একাংশ ও কিছু বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা ফেলে নদীর পাড়ে জায়গা বাড়াচ্ছেন। পরে সেখানে মাটি ফেলে বেআইনি নির্মাণ গড়ে তোলা হচ্ছে। কোথাও আবার টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে আড়াল করে স্থায়ী নির্মাণও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্রমশ কমছে নাব্যতা।
এরই মধ্যে স্থানীয়দের মতামতে দেখা মিলেছে রাজনৈতিক রঙের ইস্যু। একসময় নদীর ওপর গড়ে ওঠা একটি হোটেলের বেশকিছু অংশ নীল-সাদা রঙে রাঙানো হলেও পরবর্তীকালে সেটির রঙ বদলে গেরুয়া-সাদা করা হয়েছে। আর এই নির্মাণের বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। জলঙ্গি দখল করে কি করে গড়ে ওঠে হোটেলের অংশ? এ প্রসঙ্গে বিজেপির নদীয়া জেলা কমিটির সদস্য ভানু ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে হোটেল সংলগ্ন ওই নির্মাণের রঙ ছিল নীল-সাদা, পরে তা গেরুয়া-সাদা করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে সরকারি জমি বা নদী দখল করা চলবে না। অবিলম্বে বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করে সেই নির্মাণকারীর উপযুক্ত শাস্তি হোক।
বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, জলঙ্গি নদী দখল ও অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ তাঁর নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করব। কোথাও অবৈধ দখল বা নির্মাণের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীকে দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধার করা হবে। এমনকি বেআইনি নির্মাণে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।স্থানীয়দের অভিযোগ, মায়াপুরের একাধিক লজ ও হোটেলের শৌচাগারের নোংরা জল সরাসরি জলঙ্গি নদীতে মিশছে। এতে নদীর জল দূষিত হচ্ছে এবং নদীর পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নাব্যতা কমে যাওয়ায় মাছের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি মৎস্যজীবীদের। তাঁদের বক্তব্য, এর ফলে জীবন জীবিকাও সংকটের মুখে পড়েছে। দ্রুত নদী দখলমুক্ত করা, দূষণ রোধ এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মায়াপুর হুলোরঘাট সংলগ্ন শ্রীরূপানুগ ভজনাশ্রমের সভাপতি ভক্তি সাধন তৎপর মহারাজ বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে জলঙ্গি নদী দখলের চেষ্টার সময় ইরিগেশন দপ্তরের হস্তক্ষেপে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে ফের নদীর পাড়ে নির্মাণ শুরু হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ ভেঙে নদীর পাড় বরাবর সরকারি রাস্তা তৈরি হলে সেখানে আর কেউ বেসরকারি নির্মাণ করতে পারবে না। নদীপ্রেমী সংগঠন ‘সেভ জলঙ্গি’-র সম্পাদক শঙ্খ শুভ চক্রবর্তী বলেন, মায়াপুর ও সংলগ্ন এলাকায় ভাগীরথী ও জলঙ্গি নদীর তীরে অবৈধ দখল, নির্মাণ এবং দূষিত বর্জ্য ফেলার ফলে নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সদ্য নির্বাচিত বিধায়কের কাছে তাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি জেলার সব বিধায়কের কাছে নদীয়া জেলার নদী, খাল ও বিল সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। নিজস্ব চিত্র