


ম্যাঞ্চেস্টার: লর্ডস টেস্টের যন্ত্রণাদায়ক পরাজয় অতীত। সিরিজে ফেরার জেদ নিয়েই ম্যাঞ্চেস্টারে পা রাখবেন শুভমান গিলরা। পাঁচ টেস্টের অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিতে ভারত এখন ১-২ পিছিয়ে। সমতা ফেরাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে বুধবার শুরু হতে চলা চতুর্থ টেস্ট জিততেই হবে টিম ইন্ডিয়াকে। সেই মরিয়া মানসিকতাই সঙ্গী শিবিরে। রবিবার দুপুরে ঐচ্ছিক অনুশীলনে নামবেন ক্রিকেটাররা। সোমবার সকালে অবশ্য রয়েছে পুরোদস্তুর প্র্যাকটিস সেশন। ম্যাচের আগের দিন, মঙ্গলবার দুপুরে থাকছে ফের ঐচ্ছিক অনুশীলন। ক্লান্তির কথা মাথায় রেখেই ‘অপশনাল’ প্র্যাক্টিসের ব্যবস্থা, যাতে ওয়ার্কলোড বাড়াবাড়ি না হয়।
যশপ্রীত বুমরাহর খেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ঋষভ পন্থের ক্ষেত্রে অপেক্ষার কারণ ওয়ার্কলোড নয়, আঙুলের চোট। চতুর্থ টেস্টে তিনি খেলতে পারবেন কিনা, শেষ মুহূর্তে তা ঠিক হবে। ছয় ইনিংসে ৭০.৮৩ গড়ে ৪২৫ রান করে ফেলেছেন কিপার-ব্যাটার। লর্ডসে কিপিং করতে না পারলেও যন্ত্রণা নিয়েই দুই ইনিংসে ব্যাট করেছেন তিনি। কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডে খেললে কিপিং করতেই হবে তাঁকে। এই আবহে প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রীর পরামর্শ, ‘বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে যেন পন্থকে খেলানো না হয়। কারণ কিপিং না করলে ওকে আউট ফিল্ডে ফিল্ডিং করতে হবে। সেটা আরও খারাপ। কারণ, গ্লাভস হাতে থাকলে বাড়তি সুরক্ষা মেলে। খালি হাতে ফিল্ডিংয়ের সময় চোটের জায়গায় ফের আঘাত লাগার আশঙ্কা। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই আমার মতে, ম্যাঞ্চেস্টারে ওর বিশ্রাম নেওয়াই ভালো। কারণ, এই টেস্টে কিপার হিসেবে খেললে পরিবর্ত মিলবে না, যেহেতু চোটটা আগেই পেয়েছে। তাই বিকল্প কিপার হিসেবে ধ্রুব জুরেলের নামার প্রশ্ন নেই। আমার মতে, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওভাল টেস্টে পন্থের নামাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।’
এদিকে, লর্ডসে দুরন্ত লড়াইয়ের জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন রবীন্দ্র জাদেজা। শুক্রবার বোর্ডের পোস্ট করা ভিডিওতে কোচ গৌতম গম্ভীর বলেছেন, ‘অবিশ্বাস্য লড়াই করেছে জাদেজা। অসাধারণ ইনিংস খেলেছে।’ বিসিসিআই ওয়েবসাইটে এই ভিডিও’র নামকরণ হয়েছে ‘দ্য মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার রবীন্দ্র জাদেজা’। সহকারী কোচ রায়ান টেন ডয়েসকাটে বলেছেন, ‘অন্য পর্যায়ে উন্নীত জাড্ডুর ব্যাটিং। গত দুই টেস্টে ওর ধারাবাহিকতা ও শান্ত মনোভাব ড্রেসিং রুমকে ভরসা দিয়েছে। অনেক বছর ধরে ওকে দেখছি। এটা বলাই যায় যে, নিজের খেলায় অনেক উন্নতি ঘটিয়েছে জাদেজা।’ ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকের মতে, ‘ওর চাপ নেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ। কঠিন পরিস্থিতিতে কাজে আসছে অভিজ্ঞতাও, যা দলের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।’ পেসার মহম্মদ সিরাজ বলেছেন, ‘ওর মতো ক্রিকেটারকে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।’
এদিকে, মাত্র ১১ রান হলেই ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে হাজার রান পূর্ণ হবে লোকেশ রাহুলের। বিলেতে ১২ টেস্টে ২৪ ইনিংসে ৪১.২০ গড়ে ৯৮৯ রান করে ফেলেছেন তিনি। এতে চারটি সেঞ্চুরি ও দুটো হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে। এর আগে ভারতের মাত্র তিনজন ক্রিকেটার টেস্টে হাজার রান করেছেন ইংল্যান্ড সফরে। তাঁরা হলেন শচীন তেন্ডুলকর (১,৫৭৫ রান), রাহুল দ্রাবিড় (১,৩৭৬ রান) ও সুনীল গাভাসকর (১,১৫২ রান)। উল্লেখ্য, চলতি সিরিজে ৬২.৫০ গড়ে ৩৬৫ রান করেছেন রাহুল।